জার্মানির কনস্ট্রাক্টর ইউনিভার্সিটির নিউরোসায়েন্টিস্ট ড. রাডওয়া খলিলের নেতৃত্বে পরিচালিত এক নতুন গবেষণায় এডিএইচডি-র সাথে সৃজনশীলতার এক চমকপ্রদ সম্পর্কের কথা উঠে এসেছে। আইসায়েন্স (iScience) জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, এডিএইচডি আক্রান্তদের মনোযোগের বিক্ষিপ্ত ধরনটিই তাদের সৃজনশীল চিন্তার পেছনে একটি লুকানো ইঞ্জিন হিসেবে কাজ করতে পারে।
গবেষণাটিতে ড. খলিল এবং তার সহকর্মীরা দেখিয়েছেন যে, এডিএইচডি-র সাথে যুক্ত মানসিক প্রক্রিয়াগুলো, বিশেষ করে মনোযোগের সীমাবদ্ধতা দূর করে সেটিকে সৃজনশীল কাজে লাগালে তা ফলপ্রসূ হতে পারে। তাদের মতে, যারা এডিএইচডিতে আক্রান্ত, তাদের মস্তিষ্ক সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক বেশি তথ্য একসঙ্গে গ্রহণ করতে পারে। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে তারা খুব সহজে নতুন ধারণা তৈরি করতে সক্ষম হন।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
সাধারণত এডিএইচডিকে মনোযোগের ঘাটতি বা সীমাবদ্ধতা হিসেবেই দেখা হয়। তবে এই নতুন গবেষণার মাধ্যমে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একে কেবল নেতিবাচকভাবে না দেখে বরং সৃজনশীল বিকাশের পথ হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে শিল্প, সংগীত বা নাচের মতো সৃজনশীল কর্মকাণ্ড তাদের মস্তিষ্কের মনোযোগ নিয়ন্ত্রণের স্নায়ুতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করতে পারে।
গবেষকদের ভাষ্যমতে, মনোযোগের এই বিস্তৃত ধরনটি অনেকটা সার্চলাইটের মতো, যা একসঙ্গে অনেক কিছু পর্যবেক্ষণ করতে পারে। যদিও এটি দৈনন্দিন সাধারণ কাজে মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করে, কিন্তু সৃজনশীলতার ক্ষেত্রে এটি নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করে। এই গবেষণার লক্ষ্য হলো ওষুধের বাইরে বিকল্প কোনো উপায় হিসেবে সৃজনশীল চর্চাকে এডিএইচডি ব্যবস্থাপনায় কাজে লাগানো।