ঢাকাFriday , 4 September 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও বিচার
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরি
  8. জাতীয়
  9. ধর্মীয় সম্প্রীতি
  10. পরিবেশ ও কৃষি
  11. প্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. বিশেষ প্রতিবেদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সব খবর

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনকারী চা শ্রমিকদের বিরুদ্ধেই উল্টো মামলা


September 4, 2026 1:45 am
Link Copied!

বাংলাদেশের মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করার দাবিতে আন্দোলনরত চা শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনায় উল্টো ভুক্তভোগী শ্রমিকদের বিরুদ্ধেই মামলা হয়েছে। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নিপেন পালের করা এই মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে আন্দোলনের অন্যতম নেত্রী গীতা রানী কানুকে। গত বুধবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

হামলার বিবরণ ও মামলা

গত সোমবার শ্রীমঙ্গল চৌমুহনায় মানববন্ধন ও র‍্যালি চলাকালীন চা শ্রমিকদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে ১০ থেকে ১২ জন শ্রমিক আহত হন বলে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাও নিয়েছেন। এর পরদিন চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল বাদী হয়ে গীতা রানী কানুসহ চার থেকে পাঁচজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ছয়-সাতজনের বিরুদ্ধে শ্রীমঙ্গল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, বিবাদীরা সংঘবদ্ধ হয়ে জোরপূর্বক চা শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়ে প্রবেশ করে নিপেন পালকে মারধর করেন। এসময় আসবাবপত্র ভাঙচুর ও নগদ ৫ হাজার ৭০০ টাকা চুরির অভিযোগও আনা হয়েছে।

আন্দোলনকারীদের বক্তব্য

আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া গীতা রানী কানু দাবি করেন, পুলিশের অনুমতি নিয়েই তারা শান্তিপূর্ণ র‍্যালি করছিলেন। উল্টো চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারাই তাদের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে মারধর করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, হামলার শিকার হয়ে উল্টো তাদের বিরুদ্ধেই পরিকল্পিতভাবে এই মামলা দেওয়া হয়েছে। আরেক আন্দোলনকারী আকাশ দোষাদ জানান, হামলার ঘটনার ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তাদের কোনো নিরাপত্তা দেয়নি।

শ্রমিক ইউনিয়ন নেতার অবস্থান

হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল বলেন, আন্দোলনকারীরা কার্যালয়ে ঢুকে বিশৃঙ্খলা ও গালিগালাজ করেছেন। তাদের মারধর করা হয়েছে কি না, তা তদন্তের বিষয়। তবে আহত হলেই কারও বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে না, এমন কোনো নিয়ম নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। কার্যালয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় ভাঙচুরের কোনো ভিডিও ফুটেজ নেই বলেও জানান তিনি।

মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা আহমেদ ফয়সল জামান নিশ্চিত করেছেন যে, ঘটনার পর আহত তিনজন শ্রমিক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে তারা বাড়ি ফিরে গেছেন।