বাংলাদেশের ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্টজনেরা। বন্দর রক্ষা ও করিডরবিরোধী আন্দোলন এবং বন্দর রক্ষা কমিটি আয়োজিত এই সভায় বক্তারা বলেন, জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে কোনো ধরনের ইজারা চুক্তি করা দেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বঙ্গোপসাগর ও চট্টগ্রাম বন্দরের কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম হওয়ায় এই বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন বলেন, বন্দর বিদেশিদের হাতে দিলে যে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে, তার কোনো প্রমাণ নেই। তিনি সরকারকে জনস্বার্থবিরোধী চুক্তি থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, বিদেশি অপারেটর এলেই বন্দরের সক্ষমতা বাড়বে—এই ধারণাটি প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি বিদ্যমান যন্ত্রপাতির মাধ্যমেই কার্যক্রম পরিচালনার ওপর জোর দেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান এম এম আকাশ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির স্নায়ুমুখ। দেশের জিডিপির একটি বড় অংশ এই বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। ফলে যেকোনো চুক্তির আগে জাতীয় স্বার্থের আলোকে তা গভীরভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বন্দর রক্ষা ও করিডরবিরোধী আন্দোলনের আহ্বায়ক এম এ সাঈদ। তিনি কৌশলগত সম্পদ রক্ষায় জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার ডাক দেন। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বন্দর রক্ষা কমিটি, চট্টগ্রামের আহ্বায়ক দেলোয়ার মজুমদার, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আবু সাঈদ খানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।