যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে ডিজেলের দাম অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। দেশটিতে চলমান ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলছে সাধারণ মানুষের পকেটে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (এএএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটিতে প্রতি গ্যালন ডিজেল বিক্রি হচ্ছে ৫.৮৫ ডলারে, যেখানে এক বছর আগে এর দাম ছিল ৩.৭১ ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন ও বাণিজ্যিক খাতে ডিজেল প্রধান জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ট্রাক, ট্রেন, জাহাজ, বাস এবং কৃষি ও নির্মাণকাজে নিয়োজিত যানবাহনগুলো মূলত ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল। ফেব্রুয়ারির শেষে ইরান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই পাইকারি বাজারে তেলের দাম বাড়তে থাকে, যার প্রতিফলন ঘটছে খুচরা বাজারে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জ্বালানি তেলের দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্প্রতি ভেনিজুয়েলার সাথে একটি কৌশলগত চুক্তি ঘোষণা করেছেন। এই চুক্তির আওতায় ভেনিজুয়েলার ১৭টি তেলক্ষেত্র উন্নয়ন করা হবে, যেখানে ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুত রয়েছে। ভেনিজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, এই প্রকল্পে ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এবং ২০৯ বিলিয়ন ডলার কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভেনিজুয়েলার সাথে যৌথ উদ্যোগের ৫৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকবে।
তবে এই চুক্তি নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। তারা মনে করছেন, ভেনিজুয়েলার তেল শিল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, তা এই চুক্তিতে সমাধান হবে কি না তা স্পষ্ট নয়। এদিকে, যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ কমেছে।
নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির আকাশচুম্বী দাম মার্কিন ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। রয়টার্স ও ইপসোস-এর সাম্প্রতিক জনমত জরিপ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে ৩৩ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে জ্বালানির উচ্চমূল্য অঞ্চলভেদে ভিন্ন। ওয়াশিংটনের মতো পশ্চিমাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্যগুলোতে কর এবং দূরত্বের কারণে ডিজেলের দাম ৬.৮১ ডলারে পৌঁছেছে। পাশাপাশি, সাধারণ পেট্রোলের দামও বৃদ্ধি পেয়ে গ্যালনপ্রতি ৪.১৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।