যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ফেয়ারফোন ৬ প্লাস। প্রযুক্তিবিষয়ক লেখক অ্যালিসন জনসন তার পর্যালোচনায় জানিয়েছেন, স্মার্টফোনটি আধুনিক গ্রাহকদের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে, যা একইসাথে টেকসই এবং সহজে মেরামতযোগ্য। এটি কোম্পানিটির নৈতিক ব্যবসায়িক দর্শনের প্রতিফলন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তাদের বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ফেয়ারফোন ৬ প্লাস মডেলটিতে স্ন্যাপড্রাগন ৭এস জেন ৪ চিপসেট ব্যবহার করা হয়েছে। ১২ জিবি র্যাম এবং পাঁচ বছরের ওয়ারেন্টিসহ এই ফোনটি বাজারে আনা হয়েছে। এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর মডুলার ডিজাইন। ব্যবহারকারীরা নিজেরাই ব্যাটারি, স্ক্রিন, ইউএসবি-সি পোর্ট এবং ক্যামেরাসহ ১২টি ভিন্ন অংশ প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন করতে পারবেন।
দাম ও কার্যকারিতা
ফোনটির দাম ৬৪৯ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। মেরামতের খরচের দিক থেকে এটি অন্যান্য ফ্ল্যাগশিপ ফোনের তুলনায় বেশ সাশ্রয়ী। উদাহরণস্বরূপ, একটি ব্যাটারি পরিবর্তনের খরচ ৩৯.৯৯ ডলার এবং স্ক্রিন পরিবর্তনের খরচ ৮৯.৯৯ ডলার। সাধারণ মেরামতের জন্য কোনো পেশাদার মেরামত কেন্দ্রের প্রয়োজন নেই, যা দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহারকারীদের অর্থ সাশ্রয় করবে।
সীমাবদ্ধতা
তবে এই ফোনে কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। ডিভাইসটি আইপি৫৫ রেটিংপ্রাপ্ত হওয়ায় পুরোপুরি ধুলো বা পানিরোধী নয়। এছাড়া এতে ওয়্যারলেস চার্জিং বা ম্যাগসেফ প্রযুক্তির সুবিধা নেই। ক্যামেরা মান মোটামুটি মানের হলেও দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য তা পর্যাপ্ত।
পরবর্তী পদক্ষেপ
ফেয়ারফোন সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তাদের পণ্য বিক্রি শুরু করেছে এবং টি-মোবাইল ও এটিঅ্যান্ডটি নেটওয়ার্কের সাথে এটি পূর্ণ সমর্থন দেয়। পরিবেশ সচেতন গ্রাহকদের জন্য এটি একটি ইতিবাচক সংযোজন হিসেবে দেখছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা। ফোনটিতে এমন কিছু ফিচার যুক্ত করা হয়েছে যা ব্যবহারকারীকে ডিজিটাল আসক্তি থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করবে।