জার্মানির ডুসেলডর্ফ এবং কোলোন শহরে ভ্রমণের সময় স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮ এবং গুগল পিক্সেল ১১ প্রো ফোল্ড স্মার্টফোন দুটির ক্যামেরার কার্যকারিতা পরীক্ষা করেছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষক অ্যাডাম ডাউড। ২০২৬ সালের এই দুটি ফোল্ডেবল ফোনের ক্যামেরার মান এবং বিভিন্ন পরিবেশের ছবি তোলার দক্ষতা নিয়ে তিনি এই তুলনামূলক পর্যালোচনা করেন।
ক্যামেরার প্রযুক্তিগত দিক
গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮-এ ওয়াইড এবং আল্ট্রাওয়াইড শটের জন্য দুটি ৫০ মেগাপিক্সেলের সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যদিকে, পিক্সেল ১১ প্রো ফোল্ডে ৪৮ মেগাপিক্সেলের প্রধান সেন্সর, ৫এক্স জুম সুবিধাসহ ১০.৮ মেগাপিক্সেলের টেলিফটো লেন্স এবং ১০.৫ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রাওয়াইড সেন্সর রয়েছে। টেলিফটো লেন্স না থাকাটা জেড ফোল্ড ৮-এর ক্ষেত্রে একটি বড় সীমাবদ্ধতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
ফটোগ্রাফির অভিজ্ঞতা
পরীক্ষায় দেখা গেছে, স্যামসাংয়ের ছবিতে সাধারণত উজ্জ্বলতা বেশি থাকে, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার জন্য বেশ আকর্ষণীয়। তবে পিক্সেল ১১ প্রো ফোল্ডের ছবিতে শ্যাডো এবং কন্ট্রাস্টের ভারসাম্য অনেক বেশি বাস্তবসম্মত। বিশেষ করে রাতের আলো বা কম আলোতে ছবি তোলার সময় পিক্সেল ১১ প্রো ফোল্ডের কালার সায়েন্স এবং ডিটেইলস স্যামসাংয়ের তুলনায় কিছুটা উন্নত ফলাফল দিয়েছে।
দীর্ঘ পরিসরের শট
টেলিফটো জুমের ক্ষেত্রে পিক্সেল ১১ প্রো ফোল্ড স্পষ্টভাবেই এগিয়ে রয়েছে। স্যামসাংয়ের জুম ক্ষমতা কিছুটা সীমাবদ্ধ থাকলেও, পিক্সেলের ৩০এক্স পর্যন্ত জুম করার সুবিধা এবং দূরবর্তী বস্তুর ছবি তোলার দক্ষতা ছিল বেশ কার্যকর। সেলফি ক্যামেরার ক্ষেত্রেও পিক্সেল ১১ প্রো ফোল্ড কিছুটা বেশি ডিটেইলস ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
পর্যালোচক অ্যাডাম ডাউডের মতে, হার্ডওয়্যার স্পেসিফিকেশনের চেয়ে ক্যামেরার বহুমুখী ব্যবহার পিক্সেল ১১ প্রো ফোল্ডকে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রেখেছে। তিনি জানান, ক্যামেরা পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে বেছে নিতে বললে তিনি ব্যক্তিগতভাবে গুগল পিক্সেল ১১ প্রো ফোল্ডকেই প্রাধান্য দেবেন। তবে ফোল্ডেবল ফোনের ক্ষেত্রে উভয়ই উচ্চমানের প্রযুক্তি উপহার দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।