যুক্তরাজ্যের হেড অফিসে কর্মরতদের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে যাওয়া এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছে গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার (জেএলআর)। আগামী দুই বছরে ৪ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। জেএলআর-এর প্রধান নির্বাহী পিবি বালাজি জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং কর্মীদের ছাঁটাই প্রক্রিয়ায় যত্ন ও সম্মানের সাথে সহায়তা করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্যমতে, বিশ্বজুড়ে বিদ্যমান ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং প্রযুক্তির পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে তারা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। গত বছর একটি সাইবার হামলার কারণে কোম্পানির উৎপাদন এক মাসেরও বেশি সময় বন্ধ রাখতে হয়েছিল, যা প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। সব মিলিয়ে আগামী দুই বছরে ১.৭ বিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয় করার লক্ষ্যে এই ছাঁটাই প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হচ্ছে।
জেএলআর মূলত স্বেচ্ছায় অবসরের মাধ্যমে এই কর্মী সংখ্যা কমাতে চায়। এ লক্ষ্যে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে প্রয়োজন হলে বাধ্যতামূলক ছাঁটাইয়ের পথও বেছে নিতে পারে কোম্পানিটি।
জেএলআর-এর এই সিদ্ধান্তকে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতির জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন বার্মিংহাম ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় ও অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ডেভিড বেইলি। তিনি জানান, ব্রিটেনের অটোমোটিভ শিল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই প্রতিষ্ঠানের ওপর বিশাল একটি সাপ্লাই চেইন নির্ভরশীল।
এদিকে জেএলআর-এর এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, শ্রমিক ও তাদের পরিবারের জন্য এটি একটি অনিশ্চিত সময়। তবে সরকার প্রতিষ্ঠানটিকে কোনো আর্থিক বেইলআউট বা সহায়তা দেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে। ব্যবসায় ও বাণিজ্য বিষয়ক কমিটির প্রধান লিয়াম বার্ন একে ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসের পরিবার ও কমিউনিটির জন্য একটি বড় আঘাত বলে অভিহিত করেছেন।
অন্যদিকে জেএলআর-এর এই সংকটের জন্য অনেকে ব্রিটিশ সরকারের জিরো ইমিশন ভেহিকল (জেডইভি) ম্যান্ডেটকে দায়ী করছেন, যা ২০৩৫ সালের মধ্যে সব নতুন গাড়িকে জিরো এমিশন বা কার্বনমুক্ত করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে। বিরোধী দলের শ্যাডো ট্রান্সপোর্ট সেক্রেটারি রিচার্ড হোল্ডেন দাবি করেছেন, এই নীতি এবং উচ্চ জ্বালানি ব্যয় ব্রিটিশ অটোমোবাইল শিল্পকে পঙ্গু করে দিচ্ছে।