যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল তাদের প্রথম ফোল্ডেবল বা ভাঁজযোগ্য আইফোন বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে। নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জন টার্নাসের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিতব্য এই লঞ্চ ইভেন্টটি প্রযুক্তি শিল্পের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্যামসাংয়ের প্রথম ফোল্ডেবল ফোন বাজারে আসার সাত বছর পর অ্যাপল এই বিভাগে পা রাখছে।
অ্যাপলের এই নতুন ফোল্ডেবল আইফোনটি আকৃতিতে অনেকটা পাসপোর্ট সাইজের ছোট ও চওড়া হবে বলে গুঞ্জন রয়েছে। মজার বিষয় হলো, অ্যাপল আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে আসার আগেই স্যামসাং, হুয়াওয়ে এবং শাওমির মতো কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যে পাসপোর্ট আকৃতির ফোল্ডেবল ফোন বাজারে ছেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, অ্যাপলের সুশৃঙ্খল সাপ্লাই চেইন এবং দীর্ঘ পরিকল্পনার কথা জেনে প্রতিযোগীরা অনেকটা আগেভাগেই এই নকশা অনুকরণ করে বাজারে জায়গা করে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
প্রযুক্তি বাজারে অ্যাপলের প্রভাব নতুন নয়। এর আগেও আইফোন এয়ার বা ম্যাকবুক নিও লঞ্চের সময় বাজারে একই ধরনের প্রতিযোগিতার চিত্র দেখা গেছে। অ্যাপল যখন কোনো নতুন পণ্য নিয়ে বাজারে আসে, তখন তা পুরো বাজারের ধারাই বদলে দেয়। এমনকি এই নতুন ফোল্ডেবল ফোনের ডিসপ্লে প্যানেল তৈরির পেছনে স্যামসাংয়ের যুক্ত থাকার বিষয়টিও অ্যাপলের এই কৌশলী অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।
বর্তমানে ফোল্ডেবল ফোনের বাজার স্মার্টফোন বিক্রির মাত্র ১.৬ শতাংশ দখল করে আছে। তবে অ্যাপলের এই বাজারে প্রবেশ সামগ্রিকভাবে এই খাতের ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ঘটাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অ্যাপলের প্রত্যাশা, জন টার্নাসের প্রথম এই হার্ডওয়্যার রিলিজের মাধ্যমে কোম্পানিটি ফোল্ডেবল ফোনের বাজারকে মূলধারায় নিয়ে আসবে।
নতুন প্রধান নির্বাহী জন টার্নাসের জন্য এটি একটি বড় পরীক্ষা। হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে দক্ষ টার্নাস তার এই নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে অ্যাপলের দীর্ঘদিনের বাজার প্রভাব কতটা ধরে রাখতে পারেন, এখন সেদিকেই নজর সবার।