যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজভিত্তিক চিপ ডিজাইনার প্রতিষ্ঠান আর্ম হোল্ডিংসের প্রধান নির্বাহী রেনে হাস বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মানুষের পক্ষে অসম্ভব এমন সব ক্যান্সার নিরাময়ের পথ খুঁজে বের করবে। বর্তমান প্রযুক্তি ও কম্পিউটারের জন্য ডিএনএ মার্কার এবং ক্যান্সারের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা অত্যন্ত জটিল হলেও, ভবিষ্যতে এআই এটি সমাধান করতে সক্ষম হবে বলে তিনি দাবি করেন।
প্রযুক্তিখাতে এআই-এর গুরুত্ব তুলে ধরে হাস বলেন, ক্যান্সার নিরাময়ের পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বিশ্বজুড়ে হিউম্যানয়েড বা মানবাকৃতির রোবটের ব্যাপক ব্যবহার শুরু হবে। তবে ডেটা সেন্টার তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় চিপের ঘাটতি বর্তমানে এই দ্রুত অগ্রযাত্রাকে কিছুটা বাধাগ্রস্ত করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আর্ম হোল্ডিংস বিশ্বের বিভিন্ন স্মার্টফোন, গাড়ি ও গ্যাজেটের চিপ ডিজাইন করে থাকে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসারে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে। রেনে হাস জানান, এআই-চালিত রোবটগুলো ভবিষ্যতে উৎপাদন, নিরাপত্তা এবং ঘরোয়া কাজের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবে। কর্মসংস্থান হারানোর আশঙ্কার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রযুক্তির পরিবর্তনের ফলে কিছু কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হলেও নতুন অনেক সুযোগ তৈরি হবে, যা সাময়িক ক্ষতি পুষিয়ে নেবে।
চিকিৎসা গবেষণায় এআই-এর ভূমিকা নিয়ে লন্ডনের ইনস্টিটিউট অফ ক্যান্সার রিসার্চের অধ্যাপক ক্রিস বাকাল ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ কেবল বড় কম্পিউটার বা ডেটা সেন্টারের ওপর নির্ভর করবে না, বরং রোগ নির্ণয়ের সঠিক তথ্যের ওপর নির্ভর করবে। সঠিক ডেটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবনের সময় অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
চিপ উৎপাদনের বিষয়ে রেনে হাস জানান, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে চিপ সরবরাহে সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যা ডেটা সেন্টার স্থাপনের পথে একটি চ্যালেঞ্জ। তবে যুক্তরাজ্যে চিপ তৈরির কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি খুব একটা আশাবাদী নন। তার মতে, চিপ তৈরির জন্য বিশাল বিনিয়োগ এবং বিশেষায়িত জনশক্তির প্রয়োজন, যা বর্তমানে তাইওয়ানের মতো দেশে কেন্দ্রীভূত রয়েছে।