যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্লাস্টিক শিল্পের তৈরি পাঠ্যসূচি ও শিক্ষা উপকরণ ব্যবহারের বিষয়টি সামনে এনেছে অলাভজনক সংস্থা প্লাস্টিক পলিউশন কোয়ালিশন। সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্লাস্টিক কোম্পানিগুলো বিজ্ঞান শিক্ষার নামে শিক্ষার্থীদের কাছে প্লাস্টিককে নিরাপদ, পুনর্ব্যবহারযোগ্য এবং কর্মসংস্থানের উৎস হিসেবে তুলে ধরছে। এই কার্যক্রমকে প্লাস্টিক শিল্পের পরিকল্পিত প্রচারণা বা প্রোপাগান্ডা বলে অভিহিত করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্লাস্টিক শিল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গোষ্ঠী বিনা মূল্যে বা কম খরচে শিক্ষকদের কাছে পাঠ পরিকল্পনা, হাতে-কলমে বিজ্ঞানের পরীক্ষা এবং ‘প্লাস্টিভ্যান’ নামক ভ্রাম্যমাণ শিক্ষামূলক কর্মসূচি পৌঁছে দিচ্ছে। এসব উপকরণের মাধ্যমে প্লাস্টিকের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হলেও, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর এর মারাত্মক ক্ষতিকর দিকগুলো এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্লাস্টিক পলিউশন কোয়ালিশনের অ্যাডভোকেসি ম্যানেজার ম্যাডিসন ডেনিস জানিয়েছেন, এই উপকরণগুলো প্লাস্টিক দূষণের প্রকৃত প্রভাবকে ধামাচাপা দিচ্ছে।
প্লাস্টিক শিল্পের এই প্রচারণার কয়েকটি নজির তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। এর মধ্যে সোসাইটি অব প্লাস্টিক ইঞ্জিনিয়ার্স (এসপিই) এবং ডাও কেমিক্যাল কোম্পানির মতো প্রতিষ্ঠানের তৈরি বিভিন্ন পাঠ পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের প্লাস্টিক পণ্যের গুণমান যাচাই করতে বলা হয়। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের ডাও কেমিক্যালের কর্মী হিসেবে কল্পনা করে প্লাস্টিক ব্যাগ ডিজাইনের কাজও দেওয়া হয়। গবেষকরা বলছেন, এসব কাজের মাধ্যমে মূলত শিল্পের ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি শিক্ষার্থীদের মাথায় ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার বিভার কাউন্টিতে শেল কোম্পানির মতো বড় বড় প্লাস্টিক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান শিক্ষা কার্যক্রমে বড় ধরনের বিনিয়োগ করেছে। সেখানে প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারকে পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত করার বিনিময়ে স্কুলগুলোকে নানা সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞান শিক্ষার মান নিয়ে কাজ করা ন্যাশনাল সেন্টার ফর সায়েন্স এডুকেশনের বিশেষজ্ঞ ওয়েন্ডি জনসন মনে করেন, এই উপকরণগুলো শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য পূরণ করছে না, বরং শিল্পের নিজস্ব প্রচারণার কৌশল বাস্তবায়নে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে শিক্ষাবিদদের একাংশ মনে করেন, শিক্ষকদের সচেতন করা জরুরি যাতে তারা এসব উপকরণ সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে পারেন। প্লাস্টিক পলিউশন কোয়ালিশন দাবি জানিয়েছে, স্কুল বোর্ডগুলোকে যেন শিল্পের অর্থায়নে তৈরি এমন বিতর্কিত শিক্ষাসামগ্রী নিষিদ্ধ করার নীতিমালা গ্রহণ করা হয়।