যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক থেকে একজন এআই গবেষকের পদত্যাগ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে তার সতর্কবার্তার পর বিষয়টি নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। গবেষক জ্যাকব কক্সন তার পদত্যাগের কারণ হিসেবে জানিয়েছেন, শীর্ষস্থানীয় এআই কোম্পানিগুলোর মূল প্রকৌশলীরা মনে করেন, এআই মানবজাতিকে ধ্বংস করে ফেলার একটি বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে এবং সেটি আগামী এক দশকের মধ্যেই ঘটতে পারে। প্রযুক্তির এই ভয়াবহ ঝুঁকি নিয়ে ওয়্যারড-এর পডকাস্ট ‘আনক্যানি ভ্যালি’-তে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন ব্রায়ান ব্যারেট এবং লি ফেইগার।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই মডেলগুলোর দ্রুত উৎকর্ষ এবং তাদের নিজেদের দক্ষতা নিজেরাই বাড়ানোর ক্ষমতা (রিকাসিভ সেলফ-ইমপ্রুভমেন্ট) উদ্বেগের মূল কারণ। ওয়্যারড-এর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক উইল নাইট জানিয়েছেন, এআই মডেলগুলো এখন গণিতের জটিল সমস্যা সমাধানসহ অনেক জটিল কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করছে। এই ক্ষমতা যে হারে বাড়ছে, তাতে ভবিষ্যতে এআই মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে অনেক গবেষক আশঙ্কা করছেন।
অ্যাপলের নতুন উদ্যোগ
এআই বিতর্কের পাশাপাশি আলোচনায় রয়েছে অ্যাপলের নতুন ফোল্ডেবল স্মার্টফোন ‘আইফোন ডুও’। প্রায় ২ হাজার ডলার মূল্যের এই ফোনটি নিয়ে প্রযুক্তি বাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অ্যাপল প্রথমবারের মতো এমন একটি ডিভাইস বাজারে আনল যা স্যামসাং বা হুয়াওয়ের মতো কোম্পানিগুলোর সাথে সরাসরি প্রতিযোগিতা করবে। এছাড়া নতুন অ্যাপল ওয়াচের ‘অডিও ইন্টেলিজেন্স’ ফিচার নিয়েও গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যা আশপাশের কথোপকথন রেকর্ড বা বিশ্লেষণ করতে সক্ষম।
আদমশুমারির বিতর্কিত তথ্য
পডকাস্টে আরও আলোচনা করা হয়েছে মার্কিন আদমশুমারি ব্যুরোর একটি প্রতিবেদন নিয়ে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, ২০২০ সালের নির্বাচনে অনাগরিকদের ভোট প্রদানের কারণে নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব পড়েছে। তবে ওয়্যারড-এর অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, এই প্রতিবেদনটি ত্রুটিপূর্ণ তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে এবং এর পেছনে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের ভুল তথ্য সরকারি নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা ভবিষ্যতের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।