বাংলাদেশের সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন এই বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপনের খসড়া আইনগত যাচাই-বাছাইয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ভেটিং বা আইনি পরীক্ষা শেষে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করা হবে। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে নতুন এই বেতন স্কেল কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী, বিদ্যমান ২০টি গ্রেড অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন জারির পর বাস্তবায়নের কৌশল হিসেবে সরকার সাতটি পৃথক এসআরও (বিধিবদ্ধ নিয়ন্ত্রক আদেশ) জারির উদ্যোগ নিয়েছে। এগুলো হলো—বেসামরিক প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সশস্ত্র বাহিনী এবং বিচার বিভাগ। প্রতিটি খাতের জন্য আলাদা আলাদা বেতন ও ভাতার বিধান এই এসআরও-এর মাধ্যমে স্পষ্ট করা হবে।
ডিজিটাল পদ্ধতিতে বেতন নির্ধারণের অংশ হিসেবে সরকার ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ সফটওয়্যারের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করছে। সরকারি চাকরিজীবীদের অনলাইনে তাদের পদ, গ্রেড, ইনক্রিমেন্ট ও পদোন্নতি সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ করতে হবে। তথ্য যাচাইয়ের পর সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন বেতন ও ভাতাদি নির্ধারিত হবে। এর ফলে হিসাবরক্ষণ অফিসে শারীরিক উপস্থিতির প্রয়োজন কমবে এবং ভুল হিসাব বা দ্বৈত সুবিধা নেওয়ার ঝুঁকি হ্রাস পাবে বলে অর্থ বিভাগ আশা করছে।