যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান জ্বালানি তেলের দাম ও মুদ্রাস্ফীতির চাপে সুদের হার আবারও বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ইসিবি) মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং মুদ্রাস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি থাকার কারণে গত সপ্তাহে সুদের হার বাড়িয়ে ২.৫ শতাংশ করেছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হারের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ গত পাঁচটি সভায় সুদের হার ৩.৫ থেকে ৩.৭৫ শতাংশের মধ্যে অপরিবর্তিত রেখেছে। তবে দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতি ৩.৪ শতাংশে অবস্থান করা এবং শক্তিশালী শ্রমবাজারের কারণে ওয়াল স্ট্রিটের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবার ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে। নতুন ফেডারেল চেয়ার কেভিন ওয়ার্শ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দেওয়ায় এই সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সুদের হার কমানোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলে ১০৫ ডলারে পৌঁছেছে। জ্বালানির এই চড়া দাম সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সাধারণত মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ঋণ গ্রহণের খরচ বাড়িয়ে দিয়ে থাকে, যাতে বাজারে অর্থের প্রবাহ কমে এবং পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকে।
যুক্তরাজ্যের ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের বৈঠকেও মুদ্রাস্ফীতির বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনার কথা রয়েছে। দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতি ২.৯ শতাংশে রয়েছে এবং শীতে জ্বালানি বিল বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যের অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা আগের মতো শক্তিশালী না হওয়ায় ব্যাংক অব ইংল্যান্ড সুদের হার ৩.৭৫ শতাংশেই অপরিবর্তিত রাখতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, চার বছর আগে কোভিড পরবর্তী সময়ে যেভাবে নিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড দ্রুত বাড়ছিল, এখন পরিস্থিতি তার চেয়ে অনেক দুর্বল। কর্মসংস্থানের বাজারে গতি কম থাকায় কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির চাপও আগের তুলনায় কম। এই পরিস্থিতিই ব্যাংক অব ইংল্যান্ডকে সুদের হারের ক্ষেত্রে কিছুটা বাড়তি জায়গা দিচ্ছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।