যুক্তরাজ্যের স্কটল্যান্ডের টারিতে জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্যের কারণে মেলানি উইলসন নামক এক দোকান মালিক তার ব্যবসা ২০ মাইল সরিয়ে এনেছেন। অতিরিক্ত পরিবহন খরচ বহন করতে না পেরে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। এই ঘটনাটি বর্তমানে যুক্তরাজ্যে জ্বালানি সংকটের ভয়াবহতা ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর এর প্রভাবকে সামনে নিয়ে এসেছে।
মেলানি উইলসন আগে তার দোকানটি ইনশ এলাকায় পরিচালনা করতেন। তখন যাতায়াত বাবদ তাকে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৩০০ পাউন্ড ডিজেল খরচ করতে হতো। বর্তমানে ব্যবসাটি নিজের আবাসস্থল ব্যানফের কাছাকাছি টারিতে সরিয়ে আলায় তার যাতায়াত ২০ মাইল কমেছে এবং জ্বালানি খরচ অর্ধেক হয়েছে। তিনি জানান, প্রতিদিন এত বেশি জ্বালানি খরচ করে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাজ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে। গত এক সপ্তাহেই তেলের দাম লিটার প্রতি প্রায় ৫ পেনি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অনেক এলাকায় ডিজেলের দাম ১.৯৫ পাউন্ডের কাছাকাছি পৌঁছেছে। যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
শুধু মেলানি উইলসনই নন, স্কটল্যান্ডের গ্রামীণ অঞ্চলের অসংখ্য মানুষ একই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। মার্টিন মিলনে নামক এক ট্যাক্সি ব্যবসায়ী জানান, তার মাসিক জ্বালানি বিল ৫ হাজার পাউন্ড থেকে বেড়ে ৬ হাজার ৫০০ পাউন্ডে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া ৯২ বছর বয়সী ইভলিন গ্রান্টের মতো প্রবীণরা জ্বালানি খরচের চাপে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ কমাতে বাধ্য হচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় খুচরা বাজারে দামের এই অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার কোনো লক্ষণ না থাকায় কর্মজীবী ও ব্যবসায়ীরা তাদের দৈনন্দিন খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন।