ইউরোপের মিলান ও পোল্যান্ডের কিয়েলসে থেকে ইউরোপের শীর্ষ প্রতিরক্ষা শিল্প গোষ্ঠী এএসডি জানিয়েছে, মহাদেশজুড়ে প্রতিরক্ষা-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনায় একের পর এক রহস্যময় আগুন ও বিস্ফোরণের ঘটনায় কোম্পানি, সরকার এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। এএসডি’র মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষা খাতের ওপর নাশকতার এই প্রবণতা রোধে তথ্য আদান-প্রদান এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
২২টি দেশের ৪ হাজারেরও বেশি কোম্পানির প্রতিনিধিত্বকারী এই সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি নাশকতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই ঝুঁকি আরও বেড়েছে। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির একটি অস্ত্র কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে পরিকল্পিত নাশকতা হিসেবে অভিহিত করে এর পেছনে রাশিয়ার হাত থাকার সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
জার্মানির লিপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার চেষ্টার ঘটনায়ও সরাসরি মস্কোকে দায়ী করেছেন জার্মান কর্মকর্তারা। অন্যদিকে, ডেনমার্কের গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো রাশিয়ার বিশেষ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
বিভিন্ন দেশের প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজাচ্ছে। রাইনমেটাল এবং মিলরেম রোবটিক্সের মতো বড় কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, তারা পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে নিজেদের সুরক্ষা কৌশল পুনর্বিন্যাস করছে। বুলগেরিয়ার অস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইএমসিও’র গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এবং এস্তোনিয়ায় মিলরেম রোবটিক্সে নাশকতার চেষ্টার পর ইউরোপজুড়ে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে।
ক্রেমলিন বরাবরই এই ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে একে বানোয়াট প্ররোচনা হিসেবে দাবি করে আসছে। তবে ইউরোপের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও ন্যাটোর মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ধরনের নাশকতামূলক তৎপরতা বড় ধরনের সংঘাতের ইঙ্গিত দিতে পারে।