যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই গণিত গবেষণার ক্ষেত্রে তাদের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টায় বড় ধরনের বিতর্কের মুখে পড়েছে। নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ট্রিস্টান বাকমাস্টার এবং ড্রেসডেন টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আন্দ্রেয়াস থমসহ একাধিক গণিতবিদ অভিযোগ করেছেন যে, ওপেনএআই তাদের ব্যক্তিগত গবেষণাকে ব্যবহার করে এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের টেক্কা দেওয়ার জন্য অত্যন্ত ‘অপরিণত’ ও প্রতিযোগিতামূলক আচরণ প্রদর্শন করছে। গাণিতিক ফিল্ডে এই প্রতিষ্ঠানটির ক্রমবর্ধমান হস্তক্ষেপ গবেষণার দীর্ঘদিনের চর্চা ও নিয়মনীতিকে হুমকির মুখে ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিবাদের সূত্রপাত মূলত সহস্রাব্দ পুরস্কার (Millennium Prize) সমস্যাগুলোর একটি সমাধানের চেষ্টা থেকে। ওপেনএআই দাবি করেছে, তাদের একটি উন্নত মডেল মাত্র ৮৮ ঘণ্টায় ফ্লুইড ডাইনামিক্স সংক্রান্ত নেভিয়ার-স্টোকস (Navier-Stokes) সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করেছে। এই গবেষণায় বাকমাস্টার এবং অ্যানথ্রোপিক নামক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের গবেষক লেভেন্ট আল্পোজে কাজ করছিলেন। বাকমাস্টারের ভাষ্যমতে, ওপেনএআই তাকে তার গবেষণার অংশীদার আল্পোজেকে বাদ দিয়ে তাদের প্ল্যাটফর্মে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল, যা তিনি ‘ঘুষ’ হিসেবে গণ্য করে প্রত্যাখ্যান করেন।
ওপেনএআই-এর গবেষক সেবাস্টিয়ান বুবেক অবশ্য বাকমাস্টারের এই দাবি অস্বীকার করেছেন। তবে ওপেনএআই-এর এমন কার্যকলাপে গণিতবিদরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। গবেষকদের আশঙ্কা, ওপেনএআই-এর মতো বিশাল সম্পদশালী প্রতিষ্ঠানগুলো যদি ব্যক্তিগত গবেষণার তথ্যে প্রবেশাধিকার পায় বা অসম্পূর্ণ কাজ নিয়ে আগেভাগে প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে, তবে একাডেমিক গবেষণার পরিবেশ নষ্ট হবে।
অনেক গণিতবিদ এখন তাদের নতুন কোনো গাণিতিক সমস্যা বা গবেষণার খসড়া প্রকাশ্যে আনার ক্ষেত্রে দ্বিধা বোধ করছেন। সিঙহুয়া ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক শিং-টুং ইয়াওয়ের মতে, বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের এই রেষারেষি তরুণ গবেষকদের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করছে। ওপেনএআই-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা গাণিতিক ফলাফলের পরবর্তী ধাপগুলো নিয়ে কাজ করছে, যা নিয়ে সচেতনভাবেই এগোতে চায় তারা। তবে স্বচ্ছতার অভাব এবং কমিউনিটির প্রতি অবজ্ঞার অভিযোগ তুলে গণিতবিদদের একটি বড় অংশ ওপেনএআই-এর এই কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।