যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন হেলথ অ্যান্ড গ্রসম্যান স্কুল অব মেডিসিনের গবেষকরা ওজেম্পিক, ওয়েগোভি ও জেপবাউন্ডের মতো জিএলপি-১ (GLP-1) গোত্রের ওষুধ ব্যবহারের সাথে চুল পড়ার একটি সম্ভাব্য যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, জিনগতভাবে যেসব পুরুষের চুল পড়ার বা টাক পড়ার প্রবণতা রয়েছে, তারা এসব ওষুধ গ্রহণ করলে তাদের চুল পড়ার ঝুঁকি আরও ৭ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে।
গবেষণাটি গত ৩ সেপ্টেম্বর ‘জার্নাল অব ইনভেস্টিগেটিভ ডার্মাটোলজি’তে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষক দলের প্রধান ড. লিন পেতুখোভা জানিয়েছেন, এটিই প্রথম গবেষণায় জিএলপি-১ ওষুধ এবং চুল পড়ার মধ্যে একটি জেনেটিক যোগসূত্র প্রমাণিত হলো। আগে ধারণা করা হতো, ওজন কমানোর প্রক্রিয়ার কারণেই এসব ওষুধ গ্রহণকারীদের চুল পড়ে যায়, তবে নতুন তথ্য বলছে এর পেছনে জৈবিক কারণও রয়েছে।
গবেষণা পদ্ধতি
গবেষকরা জিএলপি১আর (GLP1R) জিনের কার্যকারিতার সাথে অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেসিয়া বা বংশগত টাক পড়ার হারের তুলনা করেছেন। উচ্চ রক্তচাপ বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের মতো বিষয়গুলো চুল পড়ার ওপর প্রভাব ফেলে কি না, তাও যাচাই করা হয়েছে। তবে সেসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার পরও ওজেম্পিক ও সমজাতীয় ওষুধ গ্রহণকারী পুরুষদের মধ্যে ৭ শতাংশ অতিরিক্ত ঝুঁকি অপরিবর্তিত থেকেছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
বর্তমানে টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং স্থূলতা নিয়ন্ত্রণে জিএলপি-১ ওষুধগুলোর ব্যবহার ব্যাপক হারে বেড়েছে। ২০২০ সালে ওজেম্পিক অনুমোদনের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এর প্রেসক্রিপশন তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে। গবেষকরা বলছেন, এই নতুন তথ্য চিকিৎসক ও রোগীদের সচেতন হতে সাহায্য করবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ড. পেতুখোভা জানান, ভবিষ্যতে রোগীদের ওষুধ দেওয়ার আগে জেনেটিক স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে চুল পড়ার ঝুঁকি নিরূপণ করা সম্ভব হতে পারে। একইসাথে, চুল পড়া রোধ করতে ওষুধের সাথে মিনোক্সিডিলের মতো সম্পূরক চিকিৎসার প্রয়োজন আছে কি না, তা নিয়েও কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের ক্ষেত্রে এই জিনগত সংযোগ বিদ্যমান কি না, তাও পরবর্তী গবেষণার বিষয়বস্তু।