যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ট্রিপল লক ব্যবস্থার আওতায় সরকারি স্টেট পেনশন বছরে ৪৮৮ পাউন্ড পর্যন্ত বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দেশটির সরকার এই পেনশনের পরিমাণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতি, মজুরি বৃদ্ধি অথবা ২.৫ শতাংশের মধ্যে যেটি সর্বোচ্চ, তাকে ভিত্তি হিসেবে ধরে থাকে। এই নিয়মটি নাগরিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় এবং আয়ের ভারসাম্য রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ট্রিপল লক ও পেনশনের হিসাব
ট্রিপল লক ব্যবস্থার কারণে প্রতি বছর এপ্রিলে স্টেট পেনশন সমন্বয় করা হয়। গত মে থেকে জুলাই মাসের মজুরি বৃদ্ধির হার ৩.৯ শতাংশ থাকায়, ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে পেনশনের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে যারা ২০১৬ সালের এপ্রিলের পর অবসরে গিয়েছেন, তাদের নতুন ফ্ল্যাট-রেট পেনশনের পরিমাণ সপ্তাহে ২৪১.৩০ পাউন্ড। প্রস্তাবিত বৃদ্ধিতে তা সপ্তাহে ২৫০.৭০ পাউন্ডে পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে, পুরনো মৌলিক পেনশনের পরিমাণ সপ্তাহে ১৮৪.৯০ পাউন্ড থেকে বেড়ে ১৯২.১০ পাউন্ড হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পেনশন পাওয়ার বয়সসীমা
বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ স্টেট পেনশন সুবিধা পাচ্ছেন। তবে পেনশনের বয়সের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন এই বয়স ৬৬ থেকে ৬৭ বছরে উন্নীত হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ২০৪৪ থেকে ২০৪৬ সালের মধ্যে যাদের জন্ম, তাদের পেনশনের বয়স ৬৮ বছরে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে এই বয়সসীমা পরিবর্তনের মাধ্যমে রাজস্ব খাতে বছরে প্রায় ১০ বিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয় হতে পারে।
কর সংক্রান্ত জটিলতা
পেনশনের পরিমাণ বৃদ্ধির ফলে অনেক পেনশনভোগী আয়করের আওতাভুক্ত হতে পারেন। ২০২৭ সালের এপ্রিলে নতুন হার কার্যকর হলে ফ্ল্যাট-রেট পেনশন ১২,৫৭০ পাউন্ডের ব্যক্তিগত করমুক্ত সীমার উপরে চলে যাবে। ফলে অতিরিক্ত প্রায় ৯১ পাউন্ড কর দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে লেবার সরকার এর আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, যারা কেবল পেনশনের ওপর নির্ভরশীল, তাদের কোনো ট্যাক্স রিটার্ন পূরণ করতে হবে না। বর্তমানে সরকারের নতুন বাজেট ঘোষণার অপেক্ষায় বিষয়টি অমীমাংসিত রয়েছে।