যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে চলমান আলোচনাকে ‘প্রতারণা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এই প্রযুক্তির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের আহ্বান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। ট্রাম্পের মতে, এআই-এর ওপর কোনো কঠোর বিধিনিষেধের প্রয়োজন নেই, বরং প্রয়োজন একজন ‘শক্ত ও স্মার্ট’ প্রেসিডেন্টের নেতৃত্ব।
এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ক্লার্ক সম্প্রতি বিবিসিকে জানিয়েছিলেন যে, এআই প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তা বন্ধ করার জন্য তৃতীয় পক্ষের পর্যবেক্ষণে একটি ‘কিল সুইচ’ বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। এর আগেও বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী ও কর্মীরা এআই-এর ঝুঁকি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। এই উদ্বেগের জেরে প্রযুক্তি খাতের শেয়ার বাজারে দরপতনের ঘটনাও ঘটে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একাধিক পোস্টে ট্রাম্প এআই নিয়ে উদ্বেগকে ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিং স্ক্যাম’-এর সাথে তুলনা করেছেন। তিনি নিজেকে ‘প্রতারণা দমনকারী’ (Hoax Buster) আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, এআই ও ডেটা সেন্টারের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র চলছে এবং এতে চীন লাভবান হচ্ছে। ট্রাম্পের এই অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, চীনের দ্রুত উন্নয়ন নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ তাদের নীতি নির্ধারণকে প্রভাবিত করছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের বিজনেস সেক্রেটারি জোনাথন রেনল্ডস জানিয়েছেন, এআই নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভোগার সুযোগ নেই, তবে অতিরিক্ত নেতিবাচক প্রচারণা থেকেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এদিকে, মাইক্রোসফট এআই-এর প্রধান নির্বাহী মুস্তাফা সুলেমান এআই মডেল উন্নয়নের সীমাবদ্ধতা নিয়ে নতুন নীতিমালা তৈরির কথা জানিয়েছেন।
আগামীতে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিতব্য এক সম্মেলনে এআই নীতি পর্যালোচনার আহ্বান জানাতে যাচ্ছেন স্টিভ ব্যানন এবং বার্নি স্যান্ডার্সের মতো বিপরীত রাজনৈতিক মতাদর্শের ব্যক্তিত্বরা। স্যান্ডার্সের মতে, এআই-এর অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি থামাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, যা মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি হতে পারে।