ঢাকাThursday , 17 September 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন ও বিচার
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. খেলা
  6. খেলাধুলা
  7. চাকরি
  8. জাতীয়
  9. ধর্মীয় সম্প্রীতি
  10. পরিবেশ ও কৃষি
  11. প্রযুক্তি
  12. বিনোদন
  13. বিশেষ প্রতিবেদন
  14. বিশ্ব
  15. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ সব খবর

মহামারির পরবর্তী প্রযুক্তি খাতে ধস: কেন সিলিকন ভ্যালির বিলিয়নেয়াররা ট্রাম্পের দিকে ঝুঁকছেন


September 16, 2026 12:45 am
Link Copied!

যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালিতে মহামারির পরবর্তী সময়ে প্রযুক্তি খাতের ব্যবসায়িক মন্দা এবং এর জেরে কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনা দেশটির রাজনৈতিক মেরুকরণকে স্পষ্ট করে তুলেছে। সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রযুক্তি খাতের প্রভাবশালী বিলিয়নেয়ার এবং উদ্যোক্তারা এখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক আদর্শের দিকে ঝুঁকছেন। এই পরিবর্তনের পেছনে বড় কারণ হলো ডেমোক্র্যাটিক প্রশাসনের কঠোর নিয়ন্ত্রণমূলক নীতি এবং প্রযুক্তি কর্মীদের ক্রমবর্ধমান সরব অবস্থান, যা সিলিকন ভ্যালির ক্ষমতা কাঠামোর জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০২০ সালে মহামারির শুরুতে জুম বা স্ল্যাকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপক হারে কর্মী নিয়োগ দেয়। কিন্তু ২০২২ সালে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বৃদ্ধি করলে পরিস্থিতি বদলে যায়। সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ার সুযোগ শেষ হওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের মুনাফার প্রত্যাশা বৃদ্ধি পায়। ফলে গুগল, ফেসবুক, অ্যামাজন ও মাইক্রোসফটের মতো জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপক কর্মী ছাঁটাই করতে বাধ্য হয়।

এই পরিস্থিতির জন্য অনেক বিনিয়োগকারী সরাসরি প্রযুক্তি কর্মীদের দায়ী করেছেন। সিলিকন ভ্যালির বিনিয়োগকারী কিথ রাবোইস এবং আন্দ্রেসেন হোরোউইটজসহ অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব কর্মীদের ‘অপ্রয়োজনীয় কাজ’ বা ‘ফেক ওয়ার্ক’ করার অভিযোগ তুলেছেন। গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই ও মেটার মার্ক জাকারবার্গের মতো নেতারাও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর নামে ব্যয় সংকোচনের পথ বেছে নেন।

রাজনৈতিকভাবেও প্রযুক্তি খাত চাপের মুখে পড়ে। জো বাইডেনের প্রশাসন বিগ টেক কোম্পানিগুলোর একচেটিয়া আধিপত্য ভাঙতে ফেডারেল ট্রেড কমিশনের মাধ্যমে কঠোর আইন প্রয়োগ শুরু করে। এছাড়া ব্যক্তিগতভাবে অনেক প্রভাবশালী উদ্যোক্তা ডেমোক্র্যাটিক সরকারের কাছে অবহেলিত বোধ করেন। বিশেষ করে টেসলার ইলন মাস্ককে ইভি সম্মেলনে আমন্ত্রণ না জানানোর মতো ঘটনা তাদের ক্ষোভ বাড়িয়ে তোলে।

এর পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতে শ্রমিক ইউনিয়ন গড়ে ওঠার প্রবণতা এবং কর্মীদের সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন ইস্যুতে প্রতিবাদে নামা নির্বাহী কর্মকর্তাদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মার্ক আন্দ্রেসেনের মতো প্রভাবশালীরা মনে করেন, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সামাজিক বিপ্লবের ইঞ্জিনে পরিণত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপট থেকেই সিলিকন ভ্যালির বিলিয়নেয়াররা এখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘অ্যান্টি-ওক’ এবং পপুলিস্ট জোটের ছত্রচ্ছায়ায় নিজেদের হারানো ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন।