পূর্ব আফ্রিকার দেশ রুয়ান্ডার মুহাঙ্গায় ড্রোন ব্যবহার করে জরুরি রক্ত ও জীবনরক্ষাকারী ওষুধ সরবরাহের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে। দেশটির সরকার ২০১৬ সাল থেকে মার্কিন রোবোটিক্স কোম্পানি জিপলাইনের সহায়তায় এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দ্রুত চিকিৎসা সরঞ্জাম পৌঁছাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
রুয়ান্ডার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সাবিন এনসানজিমানা জানিয়েছেন, পাহাড়বেষ্টিত রুয়ান্ডায় যেখানে সড়কপথে যাতায়াত অত্যন্ত কঠিন ও সময়সাপেক্ষ, সেখানে ড্রোন প্রযুক্তি মাতৃত্বকালীন মৃত্যুহার কমাতে বড় ভূমিকা রেখেছে। সরকারি তথ্যানুযায়ী, ২৬ বছর আগে প্রতি লাখে ১ হাজার জন প্রসূতির মৃত্যু হলেও বর্তমানে তা কমে ৮৭ জনে নেমে এসেছে।
তবে প্রযুক্তিগত এই সাফল্যের পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতের মৌলিক চ্যালেঞ্জগুলো এখনো স্পষ্ট। অনেক গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, অক্সিজেন এবং আল্ট্রাসাউন্ডের মতো সাধারণ সরঞ্জামের অভাব রয়েছে। ফলে ড্রোন দিয়ে ওষুধ বা রক্ত সরবরাহ করা সম্ভব হলেও রোগীকে অনেক সময় দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বড় হাসপাতালে যেতে হয়।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে রুয়ান্ডার জন্য আর্থিক সহায়তায় পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন জিপলাইনের প্রযুক্তি সম্প্রসারণে ১৫ কোটি ডলারের অনুদান দিলেও গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায় কাজ করা এনজিওগুলোর জন্য ২০ কোটি ডলারের তহবিল কমিয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ড্রোন প্রযুক্তি কার্যকর হলেও বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাট ও দক্ষ জনবলের মতো মৌলিক অবকাঠামো উন্নত না করলে সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবার সুফল পাওয়া কঠিন হবে।