চীনের ইউনান প্রদেশে ৫১৮ মিলিয়ন বছর পুরোনো এক সামুদ্রিক প্রাণীর জীবাশ্ম থেকে মাকড়সার বর্তমান বিষদাঁত বা ফ্যাং তৈরির আদি কাঠামোর প্রমাণ মিলেছে। ইউনান ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব লেস্টারের গবেষকরা এই প্রাচীন প্রাণীর জীবাশ্মটি পরীক্ষা করে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মাকড়সা, বিচ্ছু ও এঁটেল পোকার মতো প্রাণীদের বিবর্তনের ধারায় এই আবিষ্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষকদের মতে, এই সামুদ্রিক প্রাণীটির নাম ‘ইউরোকোডিয়া’। এটি ক্যামব্রিয়ান যুগে সমুদ্রের তলদেশে বাস করত। প্রাণীটির দৈর্ঘ্য ছিল মাত্র ২ থেকে ৩ সেন্টিমিটার। এর চোখগুলো মাথার সামনে থেকে ডাঁটার মতো বের হয়ে থাকত। জীবাশ্মটির ভেতরে থাকা নরম অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এবং সন্ধিযুক্ত অঙ্গগুলো এক্স-রে প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্লেষণ করেছেন বিজ্ঞানীরা।
বিশ্লেষণে প্রাণীটির চোখের ঠিক পেছনে চিমটার মতো দুটি অঙ্গ দেখা গেছে। গবেষকদের দাবি, এগুলোই আজকের মাকড়সার বিষদাঁত বা ফ্যাং-এর আদি রূপ। এই অঙ্গগুলো ব্যবহার করে প্রাচীন এই প্রাণীটি শিকার ধরত বা ছিঁড়ে ফেলত। একইসঙ্গে জীবাশ্মটিতে ফুলকার মতো কিছু কাঠামোর চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা দিয়ে প্রাণীটি পানির নিচে শ্বাস নিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউনান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ইউ লিউ, যিনি এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন, জানান যে এক্স-রে টমোগ্রাফি বিশ্লেষণের সময়ই তারা প্রাণীর সামনের দিকে চিমটার মতো অঙ্গটি প্রথম শনাক্ত করেন। তখনই তারা বুঝতে পারেন যে এটি বিচ্ছু ও মাকড়সার মতো আধুনিক প্রাণীদের বহু প্রাচীন এক পূর্বপুরুষ। এই গবেষণাটি নেচার জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রায় ৫০০ মিলিয়ন বছর আগের সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থানের প্রাণীদের বিবর্তন এবং তাদের শিকারি হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া বুঝতে এই জীবাশ্মটি নতুন এক দুয়ার খুলে দিয়েছে। মাকড়সার মতো প্রাণীদের বিষদাঁত এবং তাদের শিকারি স্বভাব যে কোটি কোটি বছরের বিবর্তনের ফসল, এই আবিষ্কার তা আরও সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণ করল।