যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ও যুক্তরাজ্যের ফার্নবোরো থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ইউরোপের দেশগুলো তাদের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনাকাটায় যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ কমাতে চায়, যা মার্কিন প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল ট্রাফিক ইন আর্মস রেগুলেশনস (ITAR) অনুযায়ী, কোনো বিদেশি অস্ত্র তৈরিতে মার্কিন যন্ত্রাংশ ব্যবহৃত হলে তা বিক্রির ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। এই আইনি জটিলতা এড়াতে ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলো এখন আর মার্কিনি যন্ত্রাংশ ব্যবহার করতে চাচ্ছে না।
হানিওয়েল অ্যারোস্পেসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিম কারিয়ার জানিয়েছেন, ইউরোপীয় দেশগুলো এখন নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা তৈরিতে জোর দিচ্ছে এবং এটি একটি ক্রমবর্ধমান ধারা। জোন ৫-এর প্রধান কৌশল কর্মকর্তা টম ক্যানিউসকে জানিয়েছেন, ইউরোপীয় অংশীদাররা এখন ITAR বিধিনিষেধের ঘোর বিরোধী হয়ে উঠছে। তারা মনে করছে, মার্কিন অস্ত্রের ওপর নির্ভরতা তাদের সার্বভৌম প্রযুক্তিগত অবদানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, ITAR-এর ‘সি-থ্রু’ বা স্বচ্ছতা নীতির কারণে কোনো বিদেশি অস্ত্র তৈরির সময় যদি সামান্যতম মার্কিন যন্ত্রাংশ ব্যবহৃত হয়, তবে সেই অস্ত্রটি অন্য কোথাও বিক্রির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনের অপেক্ষায় মাসের পর মাস আটকে থাকতে পারে। এই অনিশ্চয়তা এড়াতে অনেক ইউরোপীয় কোম্পানি এখন নিজেদের পণ্যকে ‘ITAR-ফ্রি’ বা মার্কিন নিয়ন্ত্রণমুক্ত হিসেবে বাজারজাত করার চেষ্টা করছে।
তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা এই প্রবণতাকে সরাসরি গুরুত্ব দিচ্ছেন না। পেন্টাগনের পলিসি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি এলব্রিজ কোলবি দাবি করেছেন, মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্প যে মান ও পরিমাণের সরঞ্জাম সরবরাহ করে, তার সাথে অন্য কোনো দেশ প্রতিযোগিতায় আসতে পারবে না। এরপরও ইউরোপের দেশগুলো তাদের নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প শক্তিশালী করতে বদ্ধপরিকর।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন কোম্পানিগুলো এখন ইউরোপের ভেতরেই তাদের উৎপাদন কারখানা ও স্থানীয় নেটওয়ার্ক বাড়ানোর কৌশল গ্রহণ করছে। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে, যাতে মার্কিন নিয়ন্ত্রণহীন অস্ত্রের বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখা সম্ভব হয়।