যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম জেডনেট-এর জ্যেষ্ঠ সম্পাদক অ্যাড্রিয়ান কিংসলি-হিউজেস স্মার্টফোন চার্জ দেওয়া নিয়ে প্রচলিত ছয়টি ভুল ধারণা ও এর পেছনের বাস্তবতা তুলে ধরেছেন। নব্বইয়ের দশকের ব্যাটারি প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হওয়া বিভিন্ন টিপস বর্তমানে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির যুগে অকার্যকর এবং অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিকর বলে প্রমাণিত হয়েছে।
চার্জিং নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো সবসময় ১০০ শতাংশ চার্জ দেওয়া। অ্যাপল, গুগল ও স্যামসাংয়ের মতো নির্মাতারা এখন ব্যাটারির দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে ৮০ শতাংশে চার্জ সীমাবদ্ধ রাখার সুবিধা দিচ্ছে। ফোন ১০০ শতাংশে দীর্ঘক্ষণ চার্জে থাকলে ব্যাটারির ওপর চাপ পড়ে, যা এর আয়ু কমিয়ে দেয়।
এছাড়া, চার্জ দেওয়ার আগে ব্যাটারি একেবারে শূন্য বা ০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রয়োজন নেই। এটি মূলত আশির দশকের নিকেল-ভিত্তিক ব্যাটারির জন্য প্রযোজ্য ছিল, যা আজকের লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির ক্ষেত্রে একেবারেই অপ্রয়োজনীয়। একইভাবে, সারা রাত ফোন চার্জে রাখলে ব্যাটারি নষ্ট হয়—এই ধারণাটিও ভুল। আধুনিক স্মার্টফোনে চার্জ পূর্ণ হওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা ব্যাটারির সুরক্ষায় অত্যন্ত জরুরি। অত্যধিক ঠান্ডা বা অতিরিক্ত গরমে স্মার্টফোন চার্জ দেওয়া বিপজ্জনক। ব্যাটারি ইউনিভার্সিটি ও স্মার্টফোন নির্মাতাদের মতে, ০ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে ফোন চার্জ দেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
চার্জিংয়ের সময় ফোন ব্যবহার করা নিয়ে কিংসলি-হিউজেস জানান, ফোন চার্জে থাকা অবস্থায় ব্যবহার করা সম্ভব, তবে এতে ফোন গরম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা চার্জিংয়ের গতি কমিয়ে দিতে পারে। চার্জারের ক্ষেত্রে ব্র্যান্ডের চেয়ে সার্টিফিকেশন বা মান নিয়ন্ত্রণ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সস্তা বা অখ্যাত কোম্পানির চার্জার ব্যবহার করলে তা ব্যাটারি বা ডিভাইসের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে।