যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটা তাদের স্মার্ট চশমা নিয়ে ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা ও তথ্য সুরক্ষা বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের মুখে পড়েছে। মেটা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, ব্যবহারকারী নিজে থেকে ছবি বা ভিডিও শেয়ার না করলে তা কেবল তাদের ডিভাইসেই সংরক্ষিত থাকে। তবে ক্লাউড স্টোরেজ অপশন চালু থাকলে সেই তথ্য মেটার সার্ভারে ৩০ দিনের জন্য জমা থাকে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই তথ্য বিজ্ঞাপন বা এআই প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হয় না।
এআই ফিচারের ঝুঁকি
স্মার্ট চশমার এআই ফিচার ব্যবহারের ক্ষেত্রে গোপনীয়তার বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যখনই চশমার ক্যামেরা ব্যবহার করে কোনো এআই কমান্ড দেওয়া হয়, তখন সেই ছবি মেটার সার্ভারে সংরক্ষিত হয় এবং তা পর্যালোচনার জন্য তৃতীয় পক্ষের ঠিকাদারদের কাছে পৌঁছাতে পারে। যদিও মেটা দাবি করে যে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় তারা ফিল্টার ব্যবহার করে, তবে সংবেদনশীল নথি বা ব্যক্তিগত পরিবেশে এআই ফিচার ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভয়েস কমান্ড ও তথ্য সংগ্রহ
ভয়েস কমান্ডের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। ব্যবহারকারীর প্রতিটি ভয়েস ইনপুট বা কমান্ড রেকর্ড করে তা ট্রান্সক্রিপ্ট আকারে সংরক্ষণ করা হয়। মেটা তাদের এআই-এর সক্ষমতা বাড়াতে মানব পর্যালোচকদের মাধ্যমে এই ভয়েস রেকর্ডগুলো বিশ্লেষণ করে। ভুলবশত কোনো শব্দ রেকর্ড হয়ে গেলে মেটা তা ৯০ দিনের মধ্যে মুছে ফেলার দাবি করে। তবে ব্যবহারকারীরা চাইলে অ্যাপের সেটিংস থেকে তাদের ভয়েস অ্যাক্টিভিটি লগ দেখে তা ম্যানুয়ালি ডিলিট করতে পারেন।
গোপনে রেকর্ডিংয়ের সম্ভাবনা
রে-ব্যান মেটা চশমায় রেকর্ডিং চলাকালীন একটি এলইডি লাইট জ্বলে ওঠে, যাতে অন্য কেউ বিষয়টি বুঝতে পারে। তবে কিছু ব্যবহারকারী অবৈধভাবে এই আলো বন্ধ করে গোপনে ভিডিও ধারণের চেষ্টা করছেন। মেটা ইতোমধ্যে সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে এমন কারসাজি শনাক্তের ব্যবস্থা করেছে এবং নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। তবুও প্রযুক্তিটির অপব্যবহার রোধে মেটা এখনো পুরোপুরি সফল হয়নি বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।