যুক্তরাষ্ট্রের এআই মিউজিক প্ল্যাটফর্ম সুনো তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি গানগুলো শনাক্ত করা সহজ করতে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মিউজিক ইকোসিস্টেমকে সুরক্ষিত এবং মানসম্মত রাখতে তারা অডিও ওয়াটারমার্কিং ও ফিঙ্গারপ্রিন্টিং প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শ্রোতারা সহজেই বুঝতে পারবেন কোনো গান এআই টুল ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে কি না।
সুনো তাদের ব্লগ পোস্টে এআই মডেলের প্রশিক্ষণে শিল্পীদের নাম বা কপিরাইটযুক্ত গানের তথ্য ব্যবহার না করার বিষয়টি উল্লেখ করেছে। এছাড়া, প্ল্যাটফর্মটি গান ডাউনলোডের নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ করছে, যার মাধ্যমে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে গান ছড়িয়ে দেওয়া সীমিত করা হবে। তবে ওয়াটারমার্কিং বা ডাউনলোড সংক্রান্ত নতুন নিয়ম কবে থেকে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো সময়সীমা এখনো জানায়নি প্রতিষ্ঠানটি।
প্ল্যাটফর্মটির বিরুদ্ধে গত জুলাই মাসে সোর্স কোড হ্যাকিংয়ের অভিযোগ ওঠে, যেখানে দেখা যায় যে ইউটিউব মিউজিক ও জেনিয়াস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এআই মডেল প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া সনি ও ইউনিভার্সালের মতো বড় সংগীত প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগও রয়েছে সুনোর বিরুদ্ধে।
বর্তমানে স্পটিফাই, অ্যাপল মিউজিক ও ডিজারের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো এআই গানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। অ্যাপল মিউজিক ইতোমধ্যে ট্রান্সপারেন্সি ট্যাগ ব্যবহার করছে এবং ডিজেয়ার এআই গান থেকে রয়্যালটি প্রদানের বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সুনোর নতুন এই ঘোষণা সংগীত শিল্পীদের আস্থা অর্জনে কতটুকু কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।