ইউরোপীয় ইউনিয়নের ব্রাসেলসে ইউরোপীয় কমিশন তাদের নিজস্ব সার্বভৌম স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড সেবা আইরিস-২ (IRIS²) এর বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যা প্রকল্পটিকে প্রাথমিক পর্যায় থেকে পূর্ণাঙ্গ মোতায়েনের দিকে নিয়ে গেছে। ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সি (ESA) এবং সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে স্যাটেলাইটের বিস্তারিত নকশা, নির্মাণ প্রক্রিয়া এবং ভূ-অবকাঠামো তৈরির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রকল্পের পরিধি অনুযায়ী, আইরিস-২ এর স্যাটেলাইট বহরে নতুন করে ৬৬টি স্যাটেলাইট যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর ফলে কক্ষপথে স্যাটেলাইটের মোট সংখ্যা দাঁড়াবে ৩৪৮টি। ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির তথ্যমতে, অতিরিক্ত এই স্যাটেলাইটগুলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও জরুরি সেবার সক্ষমতাকে ৬০ শতাংশ এবং বৈশ্বিক পরিসরে ৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি করবে।
২০২৯ সালের মধ্যে প্রথম পর্যায়ের স্যাটেলাইট মহাকাশে উৎক্ষেপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ইউরোপীয় কমিশন। সেই বছর থেকেই পর্যায়ক্রমে এর সেবা চালু করা হবে।
স্পেসএক্সের স্টারলিংকের তুলনায় আইরিস-২ এর নেটওয়ার্ক আকারে ছোট হলেও এর মূল লক্ষ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। বাণিজ্যিক ব্রডব্যান্ডের পরিবর্তে এই প্রকল্পটিকে মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর সরকার, নরওয়ে ও আইসল্যান্ডের মতো অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর জন্য একটি নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য সংযোগ ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।
এই নেটওয়ার্কটি মূলত জরুরি সাড়াদান, মানবিক সহায়তা এবং সীমান্ত নজরদারির মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহারের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী নাগরিক এবং ব্যবসার কাজেও ব্যবহারের সুযোগ উন্মুক্ত করা হবে।