যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে পরিচালিত এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় জানা গেছে, মানুষের বয়স ৫০ বছর হওয়ার পর থেকেই মস্তিষ্কের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ও গোপন পরিবর্তন শুরু হয়। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ (এনআইএইচ) এর অর্থায়নে পরিচালিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাস অংশে এই পরিবর্তনগুলো ঘটে, যা মানুষের স্মৃতিশক্তি ও শেখার প্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ৫০ থেকে ৭৫ বছর বয়সের মধ্যে মস্তিষ্কের প্রধান রোগ প্রতিরোধক কোষ বা মাইক্রোগ্লিয়া ধীরে ধীরে কমতে থাকে। এর পরিবর্তে সেখানে এমন কিছু কোষের আধিক্য দেখা দেয়, যেগুলো প্রদাহ তৈরিতে বেশি সক্রিয়। এই প্রক্রিয়াটি বয়সের সাথে মস্তিষ্কের ক্ষয় ও আলঝেইমারের মতো রোগের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এনআইএইচ-এর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অন এজিংয়ের পরিচালক রিচার্ড হোডস বলেন, বার্ধক্য ডেমেনশিয়ার অন্যতম বড় ঝুঁকি, কিন্তু এই প্রক্রিয়াটি কীভাবে কাজ করে তা নিয়ে আমাদের জ্ঞান অসম্পূর্ণ ছিল। এই গবেষণায় পাওয়া নতুন তথ্যগুলো মস্তিষ্কের রহস্য সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ক্লু হিসেবে কাজ করবে।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, স্যান ডিয়েগো, নিউইয়র্ক জিনোম সেন্টার এবং ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, আরভিনের গবেষকরা ৪০ জন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির মস্তিষ্কের টিস্যু বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। তারা উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে কোষের জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং তাদের উৎস পরীক্ষা করেছেন।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, শুধু রোগ প্রতিরোধ কোষ নয়, বরং মস্তিষ্কের রক্ত-মস্তিষ্ক বাধা (ব্লাড-ব্রেইন ব্যারিয়ার) রক্ষা করা কোষগুলোও বয়সের সাথে দুর্বল হয়ে পড়ে। এই সুরক্ষা স্তরটি রক্ত থেকে ক্ষতিকর উপাদান মস্তিষ্কে প্রবেশে বাধা দেয়।
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, আরভিনের অধ্যাপক এবং এই গবেষণার অন্যতম লেখক জিয়াংমিন জু জানিয়েছেন, কোষের এই পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি বুঝতে পারলে ভবিষ্যতে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা রক্ষা এবং স্নায়বিক রোগ প্রতিরোধে নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবন করা সম্ভব হতে পারে।