যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে নেটওয়ার্ক রেলের একটি অপারেশন সেন্টারে ৯০ সেকেন্ডের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে ট্রেন যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নেটওয়ার্ক রেলের নর্থ-ওয়েস্ট রুট ডিরেক্টর ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, যদিও বিদ্যুৎ বিভ্রাট অল্প সময়ের জন্য ছিল, তবুও যোগাযোগ ব্যবস্থায় অপ্রত্যাশিত ত্রুটির কারণে তা পুরো নেটওয়ার্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় যাত্রী ভোগান্তির জন্য নেটওয়ার্ক রেল ক্ষমা চেয়েছে এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
ঘটনার কারণ ও প্রভাব
অপারেশন সেন্টারটি ইংল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেন চলাচলের মূল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পর সিগন্যালিং ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ট্রেনের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অনেক সিস্টেম পুনরায় চালু করতে (রিবুট) বাধ্য হন প্রকৌশলীরা। সিগন্যালিংয়ের কিছু যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তা প্রতিস্থাপন ও মেরামতে দীর্ঘ সময় লেগেছে, যা উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডজুড়ে ট্রেনের সময়সূচিতে ব্যাপক বিপর্যয় ঘটায়।
সিস্টেমের দুর্বলতা ও ভবিষ্যৎ শঙ্কা
নেটওয়ার্ক রেল দাবি করেছে, তাদের ব্যাকআপ ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও যোগাযোগ সিস্টেম প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করেনি। ২০১৪ সালে চালু হওয়া এই উচ্চপ্রযুক্তির কেন্দ্রগুলোতে কেন্দ্রীয়ভাবে সিগন্যালিং ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। রেল বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিয়ান ওলমারের মতে, সব সিগন্যাল ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অল্প কয়েকটি কেন্দ্রে কেন্দ্রীভূত করার কারণেই এই বিপর্যয়ের মাত্রা ব্যাপক হয়েছে।
তদন্ত ও প্রতিক্রিয়া
নেটওয়ার্ক রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের বিপর্যয় এড়াতে সিগন্যালিং সিস্টেমকে আরও শক্তিশালী বা স্থিতিস্থাপক (রেজিলিয়েন্ট) করার কাজ চলছে। তবে রেল বিশেষজ্ঞ গ্যারেথ ডেনিসের মতে, নেটওয়ার্ক রেলের ওপর আর্থিক চাপ এবং কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রভাব এই সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বর্তমানে যুক্তরাজ্য সরকার রেল অবকাঠামোর উন্নয়নে কোটি কোটি পাউন্ড বরাদ্দ দিলেও মুদ্রাস্ফীতি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সংস্থাটি ব্যাপক চাপের মুখে রয়েছে।