যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বাইডেন প্রশাসনের সাবেক মন্ত্রী ও মেক্সিকোতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত কেন সালাজার দেশটির সীমান্ত সংকটের জন্য বর্তমান প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেছেন। সালাজারের মতে, বাইডেন প্রশাসন মেক্সিকো ও আমেরিকা অঞ্চলকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি এবং কার্যকর যোগাযোগ কৌশলের অভাবে সীমান্তে বড় ধরনের ব্যর্থতার সৃষ্টি হয়েছে, যা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে বসিয়েছে।
নিজের নতুন বই ‘বর্ডারল্যান্ডস’-এ সালাজার উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি সবসময় ইউরোপ ও এশিয়ার দিকে ঝুঁকে থাকে, যা মেক্সিকো ও পশ্চিম গোলার্ধের প্রতি চরম অবহেলা তৈরি করেছে। তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই সীমান্ত সংকট মোকাবিলায় কঠোর ও জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সমন্বিত যোগাযোগের অভাবে প্রশাসন এ বিষয়ে পিছিয়ে পড়েছিল।
মেক্সিকো সিটিতে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সঙ্গে এক সফরের সময় নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সালাজার জানান, সীমান্ত ও অভিবাসন সংকট নিয়ন্ত্রণের জন্য তিনি একজন পৃথক ‘জার’ বা সমন্বয়কারী নিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তার সেই পরামর্শ গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়নি। তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, যদি দ্রুত একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি নিয়োগ না দেওয়া হয় তবে সংকট নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।
সালাজার আরও জানান, ২০২৪ সালের জুন মাসে বাইডেন প্রশাসন নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সীমান্ত পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনলেও, তার সফল বার্তা জনগণের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। এই শূন্যতাকেই কাজে লাগিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প সীমান্ত সংকটকে প্রচারণার প্রধান হাতিয়ার করে তুলেছেন।
তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, ডেমোক্র্যাটরা অভিবাসন সংস্কার নিয়ে কাজ করলেও মেক্সিকোর সাথে কৌশলগত সম্পর্ক উন্নয়নে যথেষ্ট আগ্রহী নয়। তিনি একটি নতুন ‘নর্থ আমেরিকান অ্যালায়েন্স’-এর প্রস্তাব দিয়েছেন, যা নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ওপর ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডাকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসবে। সালাজার মনে করেন, অভিবাসন নীতি কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয় নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখা উচিত।