যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে মার্কিন সেনাবাহিনীর সচিব ড্যান ড্রিসকল জানিয়েছেন, তাদের দেশের অভ্যন্তরে চারটি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি নতুন টেস্টিং রেঞ্জ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা হয়েছে। বেসরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো এখন থেকে তাদের নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি ইন্টারসেপ্টর মিসাইল এই রেঞ্জগুলোতে পরীক্ষা করতে পারবে, যা প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে।
বর্তমানে হোয়াইট স্যান্ডস মিসাইল রেঞ্জের মতো জায়গায় পরীক্ষা করার সুযোগ পেতে কোম্পানিগুলোকে ১২ থেকে ১৮ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। ড্যান ড্রিসকলের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই দীর্ঘ অপেক্ষা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি জানান, বাণিজ্যিক খাতের গতিতে উদ্ভাবন নিশ্চিত করতেই সেনাবাহিনী তাদের দীর্ঘদিনের কঠোর নিয়ম শিথিল করছে।
নতুন একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে কোম্পানিগুলো আবেদন করার ৩০ দিনের মধ্যেই পরীক্ষার সুযোগ পাবে বলে আশা করছে সেনাবাহিনী। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব অর্থায়নেই (আইআরএডি) গবেষণা ও উন্নয়নের কাজ চালিয়ে যেতে হবে।
মার্কিন সেনাবাহিনীর কমান্ডিং জেনারেল মেজর জেনারেল প্যাট্রিক গেডন জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে নতুন চালু হওয়া চারটি রেঞ্জ হলো মিশিগানের ক্যাম্প গ্রেয়লিং, মিসিসিপির ক্যাম্প শেলবি, ইউটাহর ডাগওয়ে প্রুভিং গ্রাউন্ড এবং অ্যারিজোনার ইয়ুমা প্রুভিং গ্রাউন্ডের অব্যবহৃত অংশ।
আন্তর্জাতিক রেঞ্জ হিসেবে মরক্কোর মাল্টিডোমেইন ট্রেনিং এরিয়াকে বেছে নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি সেখানে কোভেন্যান্ট ইন্ডাস্ট্রিজ তাদের তৈরি ‘অ্যান্থেম’ মিসাইল সফলভাবে পরীক্ষা করেছে। মরক্কোর রয়্যাল আর্মড ফোর্সেস এবং ইউএস আফ্রিকা কমান্ডের মধ্যকার সমঝোতার ভিত্তিতেই এই কেন্দ্রটি তৈরি হয়েছে।
ড্যান ড্রিসকল আরও জানান, ভবিষ্যতে মিত্র দেশগুলোর সাথে সমন্বয় করে আরও টেস্টিং রেঞ্জ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেনাবাহিনীর লক্ষ্য হলো স্টার্টআপ বিশ্বের ‘এস্কেপ ভেলোসিটি’ বা দ্রুত গতির উদ্ভাবনী ধারণাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে তোলা।