যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকার দাবি করে একটি পোস্ট দিয়েছেন। ইরানের অভ্যন্তরীণ অবস্থার সমালোচনা করে দেওয়া এই পোস্টের শেষে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর’। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি নিয়ে ট্রাম্পের এই দাবি ও মন্তব্য ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং তারা এটি ধরে রাখবে। এর আগে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের কাছেও একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন তিনি। ইরানকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প বলেন, দেশটির কোনো শক্তিশালী নৌ বা বিমানবাহিনী নেই। তিনি অভিযোগ করেন, ইরানের অর্থনীতি ধ্বংসপ্রাপ্ত, দেশটিতে ৩০০ শতাংশ মূল্যস্ফীতি চলছে এবং তাদের নেতৃত্ব অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। ইরান শুধু কথার ফুলঝুরি ছড়ায় কিন্তু বাস্তবে কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ট্রাম্পের এই দাবির বিপরীতে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বর্তমানে উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। ইরানও এই প্রণালিতে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখার দাবি জানিয়ে আসছে। তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত না করা পর্যন্ত স্বাভাবিক জাহাজ চলাচলের পথ সহজ হবে না।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন যেখানে ১৩০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত, সেখানে মঙ্গলবারের হিসাবে মাত্র ৮টি জাহাজ ওই পথ ব্যবহার করেছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
হরমুজ প্রণালির উত্তেজনার পাশাপাশি বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে হুতি বিদ্রোহীদের আক্রমণ পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। মঙ্গলবার হুতিদের হামলায় একটি মিসরীয় মালিকানাধীন জাহাজে ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যা যুদ্ধ শুরুর পর এই পথে প্রথম প্রাণহানির ঘটনা। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের সমঝোতা প্রচেষ্টা জুলাইয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে এই নৌপথগুলোতে অস্থিরতা বজায় রয়েছে।