ভিয়েতনামের প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় পাওয়া প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছর আগের শিশুদের কঙ্কাল নিয়ে নতুন গবেষণা শুরু হয়েছে। চার্লস স্টার্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. মেলান্ড্রি ভ্লক এবং তার আন্তর্জাতিক দল এই গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। এই আবিষ্কারের মাধ্যমে প্রাচীন রোগের সংক্রমণ শনাক্তকরণ এবং সিফিলিসের উৎপত্তি নিয়ে এতদিন বিজ্ঞানীদের মধ্যে থাকা ধারণা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
গবেষক দলটি ভিয়েতনামের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ৪ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ বছর আগের কঙ্কালগুলো পরীক্ষা করে দেখেছেন। ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ অস্টিওআর্কিওলজিতে প্রকাশিত এই গবেষণায় তিনটি শিশুর দাঁত ও হাড়ের মধ্যে জন্মগত ট্রিপোনেমাটোসিস নামক রোগের স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। এতদিন মনে করা হতো, এই জাতীয় রোগ মায়ের শরীর থেকে শিশুর দেহে ছড়ানোর অর্থই হলো তা সিফিলিস। তবে নতুন এই তথ্য বলছে, সিফিলিস ছাড়াও অন্যান্য ট্রিপোনেমাল রোগ একইভাবে সংক্রামিত হতে পারে।
গবেষণার প্রধান ড. মেলান্ড্রি ভ্লক জানান, কয়েক দশক ধরে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনে জন্মগত সংক্রমণের চিহ্ন পাওয়া গেলে তাকে সিফিলিস হিসেবে ধরে নেওয়া হতো। কিন্তু তাদের নতুন গবেষণা দেখাচ্ছে যে, অন্য ট্রিপোনেমাল রোগও একইভাবে মায়ের থেকে সন্তানের দেহে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে ভিয়েতনামের মান বাক প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকায় প্রাপ্ত কঙ্কালগুলোর ধরন দেখে গবেষকরা মনে করছেন, এগুলো সিফিলিস নয় বরং ইওস (yaws) এর মতো নন-ভেনেরিয়াল রোগের লক্ষণ হতে পারে।
এই আবিষ্কার চিকিৎসা ইতিহাসের একটি দীর্ঘস্থায়ী রহস্য, অর্থাৎ সিফিলিসের উৎপত্তির বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে। গবেষকদের মতে, কঙ্কালের হাড়ের পরিবর্তন দেখে সিফিলিস আর অন্যান্য ট্রিপোনেমাল রোগের মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন। এর আগে আমেরিকা মহাদেশের বাইরে ক্রিস্টোফার কলম্বাসের ভ্রমণের আগের কোনো সিফিলিসের বায়োলজিক্যাল বা জেনেটিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
গবেষক দলের সদস্য মিন ত্রান জানান, গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলে প্রাচীন ডিএনএ সংরক্ষণ করা অত্যন্ত কঠিন এবং এটি নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে নৈতিক প্রশ্ন জড়িত। তাই ভবিষ্যতে এই ধরনের গবেষণার ক্ষেত্রে স্থানীয় জনতাত্ত্বিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের সাথে সমন্বয় রেখে কাজ করার ওপর জোর দিয়েছেন তারা। ট্রিপোনেমা প্যালিডাম ব্যাকটেরিয়া কীভাবে মানুষের সাথে বিবর্তিত হয়েছে, তা বুঝতে এই গবেষণা নতুন পথ দেখাবে বলে আশা করা হচ্ছে।