যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিষক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে ক্র্যাটম নামক সাইকোঅ্যাকটিভ উদ্ভিজ্জ উপাদান গ্রহণের ফলে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ৬,৫০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সোসাইটি ফর দ্য স্টাডি অফ অ্যাডিকশন-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালে এ সংক্রান্ত মাত্র ১৯টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছিল, যা ২০২৩ সালে বেড়ে ১,২৪২টিতে দাঁড়িয়েছে। গবেষকরা এই পরিস্থিতিকে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
গবেষণার প্রধান লেখক এবং মেডিকেল কলেজ অফ উইসকনসিনের ড. রায়ান ফেল্ডম্যান জানান, ক্র্যাটম সেবনে খিঁচুনি, হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা, লিভারের ক্ষতি এবং শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া অন্য কোনো ওষুধের সাথে এটি গ্রহণ করলে তা বিপাক প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি করে মৃত্যুর ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। ২০২৩ সালে অন্তত ১৫৮টি এমন ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা প্রাণঘাতী বা দীর্ঘস্থায়ী প্রতিবন্ধকতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কেন এই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক
যুক্তরাষ্ট্রের অনেক অঙ্গরাজ্যে ক্র্যাটমের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। গবেষণায় দেখা গেছে, যে সমস্ত অঙ্গরাজ্যে ক্র্যাটম নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেখানে বিষক্রিয়া ও গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির হার অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। এফডিএ কর্তৃক চিকিৎসায় ব্যবহারের অনুমোদন না থাকায় এর নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি রাজ্যগুলোর নিজস্ব সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।
ভবিষ্যৎ করণীয়
বর্তমানে দেশটির আইনপ্রণেতারা ক্র্যাটমের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উপায় নিয়ে বিতর্ক করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্র্যাটমের অপব্যবহার রোধে আরও কঠোর নীতিমালার প্রয়োজন। গবেষণাপত্রটি বলছে, ক্র্যাটমজনিত সমস্যাটি কোনোভাবেই অবহেলার সুযোগ নেই এবং এর ভয়াবহতা দিন দিন বাড়ছে।