বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মিথ্যা, অপপ্রচার ও কুমন্ত্রণার প্রভাব নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন লেখক ও সুন্দর জীবনের প্রেসিডেন্ট মো. সিরাজুল ইসলাম মোল্লা। ১৯ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি বলেন, বর্তমান সমাজে সত্যের চেয়ে মিথ্যার জয়জয়কার বেশি এবং এই মিথ্যাচারের জালে দেশের মানুষ সহজেই আটকা পড়ছে।
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৭১ সালের পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংসতা এবং পরবর্তী বিভিন্ন শাসনামলে মিথ্যাচারের প্রলেপ দিয়ে কীভাবে সত্যকে আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময় ক্ষমতার পালাবদল এবং রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করেছেন তিনি। লেখকের মতে, এই চক্র থেকে বেরিয়ে এসে সত্যকে আঁকড়ে ধরা এবং ন্যায়বিচারের পথে চলা এখন সময়ের দাবি।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও মিথ্যার দাপট প্রকট বলে মনে করেন লেখক। তিনি উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও আগ্রাসনের ক্ষেত্রে মিথ্যা অজুহাত ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে ইরাক, লিবিয়া ও সিরিয়ার মতো দেশগুলো ধ্বংসের মুখে পড়েছে। গাজায় চলমান যুদ্ধ এবং ইউক্রেন-রাশিয়া সংকটের পেছনেও বিশ্বরাজনীতির অস্থিরতা ও মিথ্যার প্রভাব রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিশ্বশান্তি বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে লেখক বলেন, শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো যখন নিজেদের স্বার্থে আন্তর্জাতিক নিয়ম উপেক্ষা করে, তখন বিশ্বব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা কমে যায়। তবে সবকিছুর পরও ইতিহাস সাক্ষী যে, অন্যায় ও অত্যাচার দীর্ঘস্থায়ী হয় না। তাই মিথ্যার বাহাদুরি উপেক্ষা করে মানবতা ও সত্যের পক্ষে সরব হওয়ার জন্য বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।