বিশ্বজুড়ে চুলের যত্নে অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার বা এসিভির ব্যবহার জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বর্তমানে শ্যাম্পু ও কন্ডিশনারের মতো বিভিন্ন প্রসাধনীতে উপাদান হিসেবে এটি ব্যবহৃত হচ্ছে। মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখা, প্রসাধনীর আস্তরণ দূর করা এবং চুলে উজ্জ্বলতা ফেরাতে এর কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। তবে ব্যবহারের আগে এটি সবার জন্য উপযোগী কি না, তা জেনে রাখা প্রয়োজন।
অ্যাপেল সাইডার ভিনিগারে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান রয়েছে যা মাথার ত্বকের বাড়তি তেল, ঘাম ও ময়লা দূর করতে সহায়তা করে। এটি অ্যাসিডিক হওয়ার কারণে ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য রক্ষা করতেও কার্যকর। বিশেষ করে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় মাথার ত্বকের যত্ন নিতে অনেকে এটি ব্যবহার করেন। তবে মাথার ত্বকে গুরুতর কোনো সংক্রমণের ক্ষেত্রে কেবল ভিনিগারের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সতর্কতা ও ব্যবহারের নিয়ম
যাদের মাথার ত্বক সংবেদনশীল বা চুল প্রাকৃতিকভাবেই রুক্ষ ও শুষ্ক, তাদের জন্য অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। সরাসরি এসিভি চুলে লাগালে জ্বালাপোড়া বা চুলকানির মতো সমস্যা হতে পারে। তাই ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্যই পানির সঙ্গে মিশিয়ে মিশ্রণটিকে পাতলা করে নিতে হবে। তিন কাপ পানিতে এক ছিপি পরিমাণ এসিভি মিশিয়ে শ্যাম্পু করার পর চুল ধুয়ে নেওয়া যেতে পারে। কয়েক মিনিট রেখে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
বাজারে এখন অ্যাপেল সাইডার ভিনিগারযুক্ত বিভিন্ন শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার পাওয়া যায়, যা ব্যবহার করা তুলনামূলক সহজ ও নিরাপদ। মধু মিশিয়ে ব্যবহারের পদ্ধতিও প্রচলিত রয়েছে। তবে নতুন কোনো পণ্য বা মিশ্রণ ব্যবহারের পর ত্বকে লালচে ভাব বা অস্বস্তি দেখা দিলে অবিলম্বে তা ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। মনে রাখা প্রয়োজন, ভিনিগার কোনো জাদুকরি উপাদান নয়; দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।