যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এক দাপ্তরিক নির্দেশনায় তাদের কর্মীদের কর্মস্থলে মেটা স্মার্ট গ্লাস ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে পাঠানো স্মারকলিপিতে জানানো হয়েছে, মেটা গ্লাস বা এই ধরনের ডিভাইস ব্যবহারের ফলে অনিচ্ছাকৃতভাবে সংবেদনশীল তথ্য ধারণ, রেকর্ড বা আদান-প্রদান হতে পারে, যা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও আইনি সুরক্ষা বিঘ্নিত করার ঝুঁকি তৈরি করে।
এই নিষেধাজ্ঞা আইসিই’র সকল পর্যায়ের কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত মালিকানাধীন বডি-ওয়ান ক্যামেরা ব্যবহারের ওপর সবসময়ই নিষেধাজ্ঞা ছিল। মূলত বিদ্যমান নীতিমালার পুনর্ব্যক্ত হিসেবেই নতুন এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দেশটিতে চলমান কঠোর অভিবাসন কার্যক্রমের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন সময় কর্মকর্তাদের এই স্মার্ট গ্লাস পরিহিত অবস্থায় দেখা যাওয়ার পর বিষয়টি সামনে এলো।
পূর্বের ঘটনাপ্রবাহ
গত কয়েক মাসে আইসিই এবং কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার পেট্রোল (সিবিপি) এজেন্টদের অনেককেই কর্মস্থলে মেটা স্মার্ট গ্লাস ব্যবহার করতে দেখা গেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্তত ছয়টি অঙ্গরাজ্যে এমন ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে একটি অভিবাসন অভিযানে বর্ডার পেট্রোলের এক সদস্যকে এই গ্লাস পরে থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া নীতিমালা অমান্য করে এক সিবিপি এজেন্টের রেকর্ডিংয়ের ঘটনাও সামনে এসেছে।
প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে পরিকল্পনা
ব্যক্তিগত স্মার্ট গ্লাস ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিলেও, আইসিই সরকারিভাবে নিজস্ব স্মার্ট গ্লাস ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। বাজেট নথি অনুযায়ী, আগামী বছরের মধ্যে সংস্থাটি এমন স্মার্ট গ্লাস ব্যবহারের লক্ষ্য নিয়েছে, যেগুলোতে বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ সক্ষমতা থাকবে।
মেটা গ্লাস নিয়ে বিতর্ক
মেটার এই স্মার্ট গ্লাসটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ব্যবহারের উপযোগী কি না, তা নিয়ে মেটা কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে আইসিই’র সাথে এই প্রযুক্তির সম্পৃক্ততা নিয়ে জনমনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মেটার তৈরি ফেস রিকগনিশন বা চেহারা শনাক্তকরণ প্রযুক্তি এবং স্মার্ট গ্লাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে এর আগেও নানা উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।