ভারতের কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটে শিখা ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাত বাংলাদেশিসহ মোট নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটা এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আরও ছয়জন আহত হয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী এবং পুর ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, হোটেলটির বৈধ কোনো কাগজপত্র ছিল না এবং সেখানে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থাও ছিল না, যা এই ট্র্যাজেডির অন্যতম কারণ।
নিহত বাংলাদেশিরা
মারা যাওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চার সদস্য দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন, ছেলে শর্ণশীষ দত্ত ও শ্বশুর আকরাম হোসেন রয়েছেন। এছাড়া সাভারের আহমেদ বাবু এবং সাতক্ষীরার এস এম আলিমুজ্জামান ও রেবতী সরকারও এই অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বাকি দুজন ভারতীয় নাগরিক, যাদের একজন হোটেলের কর্মচারী।
তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা
ঘটনার পর হোটেলটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং জমির মালিককে আটক করেছে পুলিশ। কলকাতা পৌরসভা এই ঘটনার তদন্তে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করার ঘোষণা দিয়েছে। দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের উৎস এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে হোটেলটিতে জরুরি বহির্গমন পথ বা ফায়ার এক্সিট না থাকা এবং ভবনটির জরাজীর্ণ অবস্থার বিষয়টি তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।
নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ওই এলাকায় নিয়মবহির্ভূতভাবে অনেকগুলো হোটেল গড়ে উঠেছে। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বৈধ ট্রেড লাইসেন্স ও বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়া কীভাবে এই হোটেল পরিচালিত হচ্ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হবে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনাকে দীর্ঘদিনের গাফিলতি ও উদাসীনতার ফল বলে মন্তব্য করেছেন।