যুক্তরাজ্যের লন্ডনে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে অনেক প্রতিষ্ঠান ‘পে-ইট-ফরোয়ার্ড’ বা আগাম সহায়তা স্কিম চালু করেছে। এর মাধ্যমে দানশীল ব্যক্তিরা কফি বা বইয়ের মতো ছোটখাটো পণ্যের দাম পরিশোধের জন্য অর্থ জমা রাখেন, যা প্রয়োজনবোধে যে কেউ ব্যবহার করতে পারেন। এই স্কিমগুলো নিয়ে লণ্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের অধ্যাপক জোয়ান কোস্টা-ই-ফন্ট এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাদের নিজস্ব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন।
শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত হোস্ট ক্যাফেতে এই সুবিধার অংশ হিসেবে কফি কেনার সুযোগ রয়েছে। ক্যাফে ম্যানেজার বারবারা গোর্নিকা জানান, এখানে গ্রাহকরা কোনো বাড়তি কথা না বলে কাউন্টারে থাকা পলিমার হার্ট বা প্রতীক চিহ্ন জমা দিয়ে বিনামূল্যে পানীয় নিতে পারেন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো গ্রাহকদের লজ্জা থেকে মুক্তি দেওয়া। গৃহহীন অবস্থায় দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে লন্ডনে বসবাসকারী পল আথারটন এই উদ্যোগকে ‘জীবন পরিবর্তনকারী’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে সমাজের সাথে সংযুক্ত থাকা সহজ হয়।
তবে এই স্কিম ব্যবহারে মানুষের মনে এক ধরণের দ্বিধা কাজ করে। দক্ষিণ লন্ডনের কাম্বারওয়েলের লালা বুকস নামে একটি বইয়ের দোকানেও এমন সহায়তা স্কিম চালু আছে। দোকানের মালিক ড্যানিয়েল ময়েলান জানান, অনেক গ্রাহক মনে করেন তারা হয়তো ‘ততটা দরিদ্র নন’ যে এই সুবিধা নেবেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, এই স্কিমটি কেবল চরম অভাবীদের জন্য নয়, বরং যে কেউ অর্থের সংকটে থাকলে এটি ব্যবহার করতে পারেন।
লজ্জা দূর করার জন্য লালা বুকস দোকানে গোপন পদ্ধতিতে গিফট ভাউচার সংগ্রহের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যা সাধারণ ভাউচারের মতোই দেখতে। ময়েলান জানান, কেউ কেউ এই তহবিল থেকে বই নিয়ে পরে নিজেই সেখানে অনুদান দেন। বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জোয়ান কোস্টা-ই-ফন্ট একে সামগ্রিক সমস্যার সমাধান নয়, বরং মানুষের সহমর্মিতার একটি নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।