ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলায় মাদক সেবনের দায়ে সাজা পাওয়া দুই নেতাকে নিয়ে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুদুল ইসলাম ও সদস্যসচিব মো. কামরুজ্জামান স্বাক্ষরিত চিঠিতে এই কমিটি ঘোষণা করা হয়, যেখানে সাজাপ্রাপ্ত একজনকে সাধারণ সম্পাদক এবং অপরজনকে সহসভাপতি করা হয়েছে। দলের শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তির প্রশ্ন ওঠায় স্থানীয় পর্যায়ে এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
পটভূমি
২০২২ সালের ১২ অক্টোবর গোয়েন্দা পুলিশ রানীশংকৈল উপজেলার পাটগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ মনোয়ার হোসেন, মাসুদ রানা ও সালাউদ্দীন নামে তিনজনকে আটক করে। সে সময় মাদক সেবনের অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের প্রত্যেককে পাঁচ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন। সে ঘটনার পর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল তাদের সাময়িক বহিষ্কার করেছিল। বর্তমানে সেই মনোয়ার হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক এবং মাসুদ রানাকে সহসভাপতি করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নেতা-কর্মীদের প্রতিক্রিয়া
কমিটি ঘোষণার পর থেকেই স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সংগঠন পদপ্রত্যাশীরা অভিযোগ করেছেন, মাদকের মতো অপরাধে জড়িতদের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। বিশেষ করে দলের জিরো টলারেন্স নীতি থাকার পরেও এমন সিদ্ধান্তকে অনেকে অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করছেন।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
সহসভাপতি মাসুদ রানার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেনের দাবি, তৎকালীন ঘটনার সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন না এবং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলেন। জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাসুদুল ইসলাম জানান, সুষ্ঠুভাবে দল পরিচালনার জন্য উপযুক্ত নেতার সংকটের কারণেই তাদের ওপর পুনরায় আস্থা রাখা হয়েছে এবং বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো অভিযোগ নেই।