বাংলাদেশের রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষকসহ তার পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে নগরীর কামালকাছনা মাছুয়াপাড়ার নিজ বাসা থেকে পুলিশ মরদেহগুলো উদ্ধার করে। নিহতরা হলেন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী (২৫) এবং ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী (১২)। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থাগুলো রহস্য উদঘাটনে মাঠে নেমেছে।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ পাওয়া গেছে বাড়ির ছাদে। এছাড়া তার স্ত্রী প্রীতিলতা ও মেয়ে প্রার্থীর মরদেহ পড়ে ছিল ছাদে ওঠার সিঁড়িতে এবং ১২ বছর বয়সী ছেলে প্রীয়মের মরদেহ পাওয়া যায় খাটের নিচে। বৃহস্পতিবার থেকে পরিবারটিকে আর দেখা যায়নি এবং বাড়ির প্রধান ফটকটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। শনিবার রাত ৯টার দিকে ঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়দের সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে ৯৯৯-এ কল পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা ভেঙে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। বাসার আসবাবপত্র ও অন্যান্য জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
স্বজনদের বক্তব্য
নিহত প্রীতিলতা চক্রবর্তীর বোন পূজা চক্রবর্তী জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে সর্বশেষ তাদের সাথে ফোনে কথা হয়েছিল। এরপর শনিবার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে তিনি স্বামীকে নিয়ে বাসায় ছুটে যান। গেটে তালা দেখে তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল করেন।
তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ
রংপুর সিআইডির ইনচার্জ সুমিত চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রাথমিক আলামত দেখে এটিকে ডাকাতির ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্ত ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল কাদের জানান, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য সংস্থা রহস্য সমাধানে কাজ করছে।
উল্লেখ্য, গণপতি চক্রবর্তী গত বছরের ডিসেম্বরে শিক্ষকতা থেকে অবসরের পর হোমিওপ্যাথি চেম্বারে সেবা দিতেন। তার মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী কারমাইকেল কলেজের ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ছেলে প্রীয়ম জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত।