স্পেনের সান সেবাস্তিয়ানে অনুষ্ঠিত ফেডারেশন অফ ইউরোপিয়ান নিউরোসায়েন্স সোসাইটিজ (এফইএনএস) ফোরাম ২০২৬-এ উপস্থাপিত এক গবেষণায় জানানো হয়েছে, একাধিক ভাষা জানা ব্যক্তিদের মস্তিষ্ক তাদের প্রকৃত বয়সের তুলনায় তরুণ থাকে। গবেষণায় নেতৃত্ব দেন স্পেনের বাস্ক সেন্টার অন কগনিশন, ব্রেন অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজের ড. লুসিয়া আমোরোসো।
মানুষের বয়স বাড়ার সাথে সাথে মস্তিষ্কের স্নায়ু কোষের মধ্যে সংযোগ দুর্বল হয়ে পড়ে, যার ফলে স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া বা চিন্তা করার গতি ধীর হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। নতুন এই গবেষণার ফলাফল বলছে, বহুভাষিক অভিজ্ঞতা মস্তিষ্কের এই বার্ধক্যজনিত প্রক্রিয়াকে ধীর করতে সহায়তা করে।
গবেষণার অংশ হিসেবে স্পেনের বাস্ক অঞ্চলের বাসিন্দাদের ওপর জরিপ চালানো হয়, যারা স্প্যানিশ, বাস্ক, ফ্রেঞ্চ ও ইংরেজি মিলিয়ে এক থেকে চারটি ভাষায় কথা বলতে সক্ষম। গবেষকরা ৭২৮ জনের মস্তিষ্কের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করে একটি ‘ব্রেইন এজিং ক্লক’ বা মস্তিষ্কের বার্ধক্য পরিমাপের পদ্ধতি তৈরি করেন। পরবর্তীতে ১৪৪ জনের ওপর এই পদ্ধতি প্রয়োগ করে তাদের মস্তিষ্কের আনুমানিক বয়স নির্ধারণ করা হয়।
ফলাফলে দেখা যায়, যারা দুটি ভাষা জানেন তাদের মস্তিষ্ক একভাষী ব্যক্তিদের চেয়ে প্রায় ছয় বছর তরুণ। যারা তিনটি ভাষা জানেন তাদের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য সাত বছর এবং যারা চারটি ভাষায় পারদর্শী তাদের মস্তিষ্ক প্রায় ১৩ বছর তরুণ হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে।
ড. আমোরোসো জানান, কেবল ভাষার সংখ্যাই নয়, বরং কোনো ব্যক্তি কত দ্রুত ও কতটা দক্ষভাবে ভাষা শিখেছেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। এটি মস্তিষ্কের সুরক্ষায় একটি ভারসাম্য বজায় রাখে। তবে অন্যান্য জীবনযাত্রার অভ্যাস ও সামাজিক কর্মকাণ্ডও এই প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে গবেষকরা সতর্ক করেছেন।
ভবিষ্যতে আলঝেইমারস বা এই জাতীয় নিউরোডিজেনারেটিভ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ওপর এর প্রভাব নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে গবেষক দলের। গ্রিসের ন্যাশনাল অ্যান্ড কাপোস্ট্রিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ এথেন্সের অধ্যাপক ক্রিস্টিনা ডালা বলেন, নতুন এই গবেষণা ইঙ্গিত দেয় যে, যেকোনো বয়সে নতুন ভাষা শেখা মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ধরে রাখতে এবং দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্ককে সতেজ রাখতে সহায়তা করতে পারে।