চীনের ইনার মঙ্গোলিয়ার উলানচাব শহরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রকল্পের জন্য দ্রুতগতিতে গড়ে উঠছে নতুন সব ডেটা সেন্টার। সস্তা বিদ্যুৎ, পর্যাপ্ত জমি এবং বেইজিংয়ের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে এই শহরটি বর্তমানে চীনের এআই অবকাঠামো উন্নয়নের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। গোল্ডম্যান স্যাকসের সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ সাল থেকে শহরটিতে প্রায় ১০০টি ডেটা সেন্টার নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।
শহরটি উঁচু মালভূমিতে অবস্থিত হওয়ায় এবং দীর্ঘ শীতকাল থাকায় ডেটা সেন্টারগুলোর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত শক্তির প্রয়োজন হয় না। এছাড়া বেইজিংয়ের কাছাকাছি হওয়ায় ডেটা আদান-প্রদানে বিলম্ব বা ল্যাটেন্সি অনেক কম। বিদ্যুতের সহজলভ্যতা এবং কয়লা ও নবায়নযোগ্য শক্তির পর্যাপ্ত সরবরাহ বিনিয়োগকারীদের জন্য অন্যতম বড় আকর্ষণ হিসেবে কাজ করছে।
বর্তমানে ডিপসিক, বাইটড্যান্স, আলিবাবা এবং শিয়াওহংশু-এর মতো বড় চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের এআই অবকাঠামো তৈরিতে বিপুল বিনিয়োগ করছে। আগে চীনা কোম্পানিগুলো ক্লাউড সার্ভিস প্রদানকারীদের ওপর নির্ভরশীল থাকলেও এখন নিজস্ব ডেটা সেন্টার নির্মাণের মাধ্যমে তারা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে মনোযোগ দিয়েছে।
তবে এই দ্রুত প্রসারের পেছনে পানির তীব্র সংকট একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুষ্ক অঞ্চল হওয়ায় শহরটিতে পানির চাহিদা মেটানো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে পানির সংকট কমাতে রাতে কয়েক ঘণ্টা পানির সরবরাহ বন্ধ রাখার মতো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হচ্ছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে।
সিঙ্গাপুর ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক অ্যান্ড্রু স্টোকলস জানান, এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য দূরবর্তী এই ডেটা সেন্টারগুলো এখন নতুন উপযোগিতা খুঁজে পেয়েছে। এছাড়া চীনের সরকার তাদের ‘ইস্টার্ন ডেটা, ওয়েস্টার্ন কম্পিউট’ প্রকল্পের আওতায় পশ্চিমের অঞ্চলগুলোতে ডেটা সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে উদ্বৃত্ত নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের কৌশল গ্রহণ করেছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, যদিও নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, তবুও এই ডেটা সেন্টারগুলোর একটি বড় অংশ এখনো কয়লা থেকে প্রাপ্ত বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে জ্বালানি সংকট এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করাই হবে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।