বাংলাদেশের ঢাকার বারিধারা ও গুলশানে অবস্থিত বিদেশি দূতাবাসগুলোতে ই-মেইলের মাধ্যমে হুমকি প্রদানের ঘটনায় ওই এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কূটনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) আবু খায়ের জানিয়েছেন, বিষয়টি জানার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং তদন্ত শুরু করেছে। বিদেশি কূটনৈতিক মিশনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানোই এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য।
তদন্ত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
পুলিশের তথ্যমতে, চীনা দূতাবাসের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পুলিশ সদর দফতরকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এরপর ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। নিরাপত্তা বাড়ানোর অংশ হিসেবে কূটনৈতিক এলাকায় চেকপোস্ট, নিয়মিত টহল এবং দূতাবাসের সামনে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশের কুইক রেসপন্স টিমকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট
গত সপ্তাহের শেষ দিকে ই-মেইল পাঠিয়ে বাংলাদেশে অবস্থিত একাধিক দূতাবাসে হুমকি দেওয়া হয়। কোনো গোষ্ঠী আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে এই ই-মেইলগুলো পাঠিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। এ বিষয়ে সিটিটিসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোর প্রতিনিধিদের বৈঠকও হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো দূতাবাস থেকেই গুলশান থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়নি।
পুলিশের বক্তব্য
এডিসি আবু খায়ের জানান, পুরো কূটনৈতিক এলাকায় যে পরিমাণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে তাতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বর্তমানে পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। কারা বা কী উদ্দেশ্যে এই হুমকি দিয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।