মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ইরান সমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে বিমান হামলা পরিচালনা করার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড় ধরনের লাফ দেখা দিয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
- ইরানের অভ্যন্তরে এবং এর অনুসারী বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে বিমান হামলা শুরু করেছে।
- এই সামরিক অভিযানের জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
- অস্থিরতার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক শেয়ার বাজারে।
- তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থেকে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে সংকট তৈরির উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার পারদ আরও একবার তুঙ্গে উঠেছে। সিরিয়া ও ইরাক সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ইরান সমর্থিত মিলিশিয়াদের লক্ষ্য করে মার্কিন সেনাবাহিনী নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে। পেন্টাগনের ভাষ্যমতে, এটি তাদের সেনাদের ওপর পূর্ববর্তী হামলার প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা। তবে তেহরান এই হামলাকে উসকানিমূলক আখ্যা দিয়ে এর কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
সামরিক এই উত্তেজনার তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, অপরিশোধিত তেলের দাম কয়েক শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুটে সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে। বিশ্ব অর্থনীতি যখন মুদ্রাস্ফীতির চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন তেলের এই দাম বৃদ্ধি নতুন করে জীবনযাত্রার খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষণ
বর্তমান পরিস্থিতি কেবল একটি সামরিক সংঘাত নয়, বরং এটি একটি বড় ধরনের ভূ-রাজনৈতিক সংকট। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই সরাসরি ও পরোক্ষ লড়াই মূলত এই অঞ্চলে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখার প্রচেষ্টার প্রতিফলন। যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার উদ্দেশ্য হলো তেহরানকে বার্তা দেওয়া যে, তাদের আঞ্চলিক কার্যক্রমের একটি সীমা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে, এই সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে আরও ভঙ্গুর করে তুলছে।
তেলের দামের ওপর এর প্রভাব প্রমাণ করে যে, বিশ্ব অর্থনীতি কতটা সংবেদনশীল। যদি উত্তেজনা প্রশমিত না হয় এবং ইরান পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তবে জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে পড়বে বিশ্ব। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন আশঙ্কা করছে যে, এই সংঘাত আঞ্চলিক যুদ্ধ থেকে বড় কোনো বৈশ্বিক সংকটের দিকে মোড় নিতে পারে, যার মাশুল গুনতে হবে সাধারণ ভোক্তাদেরই।
সূত্র: france24.com