বাংলাদেশের ঢাকার মিরপুরে অবস্থিত জাতীয় চিড়িয়াখানায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সরকারি ছুটির দিনে বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করেই ভিড় জমিয়েছেন শত শত দর্শনার্থী। পরিবার-পরিজন নিয়ে বিনোদনের খোঁজে আসা মানুষের উপস্থিতি চিড়িয়াখানার স্বাভাবিক পরিবেশকে মুখরিত করে তোলে।
বুধবার সকাল থেকেই রাজধানীর আকাশ ছিল মেঘলা, কখনো গুঁড়িগুঁড়ি আবার কখনো মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু এই প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করেই দর্শনার্থীরা বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি কিংবা মোটরসাইকেলে করে চিড়িয়াখানায় পৌঁছাতে থাকেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় টিকিট কাউন্টার ও প্রবেশপথে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।
চিড়িয়াখানার ভেতরে বাঘ, সিংহ, হাতি, জিরাফ ও হরিণসহ বিভিন্ন প্রাণীর খাঁচার সামনে ছিল শিশুদের ভিড়। অভিভাবকরা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে সন্তানদের বিভিন্ন প্রাণী দেখানোর সুযোগ করে দেন। বৃষ্টির কারণে অনেকে বসার স্থান বা ছাউনির নিচে আশ্রয় নিলেও আনন্দ ভ্রমণে ঘাটতি ছিল না তাদের।
চিড়িয়াখানার বাইরে হকারদের বেচাকেনাও ছিল বেশ জমে ওঠার মতো। বাদাম বিক্রেতা মানসুরা জানান, বৃষ্টির মধ্যেও দর্শনার্থীদের চাপ থাকায় সকাল থেকে তার বিক্রি ভালো হয়েছে। একই কথা জানিয়েছেন বেলুন বিক্রেতা মুশফিকাও।
গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে সাত সদস্যের পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা দীপক বড়াল জানান, বৃষ্টি থাকলেও পরিবারের সবাই মিলে ঘুরতে এসে তাদের ভালো লাগছে। তবে চিড়িয়াখানায় নতুন প্রাণীর সমাহার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন অনেক দর্শনার্থী। মিজানের মতো দর্শনার্থীরা মনে করেন, চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের আগ্রহ আরও বাড়াতে নতুন নতুন প্রাণীর সংযোজন জরুরি।