যুক্তরাষ্ট্রের পিপলফাইন্ডারস নতুন একটি ওয়েবসাইট চালু করেছে যার নাম স্টাড অর ডাড। প্ল্যাটফর্মটি মূলত ডেটিং করা ব্যক্তিদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য বা ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই করার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। পিপলফাইন্ডারস ডটকমের সিইও অ্যাম্বার হিগিন্স জানিয়েছেন, আধুনিক ডেটিং ব্যবস্থায় বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতেই এই প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে।
এই ওয়েবসাইটে একজন ব্যক্তির নাম বা ফোন নম্বর ব্যবহার করে তার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে তথ্য জানা সম্ভব। প্ল্যাটফর্মটি পাবলিক রেকর্ড, দেউলিয়া হওয়ার তথ্য, কর সংক্রান্ত নথি, ফোন ডিরেক্টরি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে। এটি আর্থিক অবস্থা, সম্পত্তির মালিকানা, কর্মসংস্থানের ইতিহাস এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড—এই চার বিভাগে তথ্য প্রদর্শন করে। প্রতিটি রিপোর্টের সাথে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত সারাংশ থাকে, যা সম্ভাব্য সঙ্গীর বিষয়ে সতর্ক সংকেত বা ভালো দিকগুলো চিহ্নিত করে।
পিপলফাইন্ডারসের সিইও অ্যাম্বার হিগিন্সের মতে, ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে অপরিচিত ব্যক্তিদের সাথে পরিচিত হওয়ার সময় সঠিক তথ্য না থাকায় অনেকেই ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। এই ওয়েবসাইটটি ডেটিংয়ের ক্ষেত্রে একটি সহযোগী হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি দাবি করেন। এতে ‘ডেটিং ডিটেকটিভ’ নামে একটি এআই অ্যাসিস্ট্যান্টও রয়েছে, যা ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করবে।
তবে এই প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ইলেকট্রনিক ফ্রন্টিয়ার ফাউন্ডেশনের সাইবার নিরাপত্তা পরিচালক ইভা গালপেরিন বলেন, এই ধরনের সাইট স্টকারদের হাতে তথ্য তুলে দেওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। এছাড়া, ডেটা ব্রোকার শিল্পের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ না থাকায় ভুল বা পুরোনো তথ্য দিয়ে কারো সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরির আশঙ্কাও থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরাধ বা সহিংসতা অনেক সময় পুলিশের খাতায় নথিভুক্ত হয় না, তাই এই ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত রিপোর্ট কারো চরিত্র বা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট নয়। অ্যাম্বার হিগিন্স স্বীকার করেছেন যে, পাবলিক রেকর্ডে অনেক সময় ভুল তথ্য থাকতে পারে। তবে ব্যবহারকারীরা চাইলে তাদের তথ্য ওয়েবসাইট থেকে মুছে ফেলার অনুরোধ করার সুযোগ পাবেন বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।