যুক্তরাজ্যে যুদ্ধপরবর্তী সময়ের চিনির রেশন বা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, জীবনের প্রথম দুই বছর বা প্রথম ১০০০ দিনে চিনির গ্রহণ কম হলে তা ৭০ বছর বয়স পর্যন্ত মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক উইলোং ঝাং এবং তার সহকর্মীরা এই গবেষণায় অংশ নেন। গবেষণায় উঠে এসেছে, শৈশবে চিনি কম গ্রহণ করা ব্যক্তিদের মধ্যে ভবিষ্যতে বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি অনেক কম এবং তাদের কোষীয় পর্যায়ে বার্ধক্যের গতিও ধীর।
গবেষণা পদ্ধতি
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাজ্যে চিনির রেশন ব্যবস্থা কার্যকর ছিল, যা ১৯৫৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তুলে নেওয়া হয়। এর ফলে খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে জন্ম নেওয়া শিশুদের খাদ্যাভ্যাসে বড় ধরনের পার্থক্য তৈরি হয়। গবেষকরা ১৯৫১ থেকে ১৯৫৬ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণকারী ৬৪ হাজার মানুষের ওপর তথ্য বিশ্লেষণ করেন। এই সময়ে যারা জন্মেছিলেন, তাদের প্রথম ১০০০ দিনের (গর্ভধারণ থেকে দ্বিতীয় জন্মদিন পর্যন্ত) চিনির গ্রহণের মাত্রা ভিন্ন ছিল। ইউকে বায়োব্যাংক থেকে প্রাপ্ত তথ্যের মাধ্যমে তাদের পরবর্তী স্বাস্থ্যগত অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়।
স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব
গবেষণায় দেখা গেছে, জীবনের শুরুর দিকে চিনির রেশন পাওয়ার সুযোগ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে স্তন, প্রোস্টেট, লিভার, মলদ্বার ও ফুসফুসের ক্যানসারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল। এর মধ্যে লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি ৬৯ শতাংশ পর্যন্ত কম পাওয়া গেছে। এছাড়া বয়স্ক অবস্থায় তাদের কোষের ক্রোমোজোমের প্রান্তে থাকা টেলোমিয়ারের গঠন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তাদের শারীরিক বার্ধক্য অন্যদের তুলনায় প্রায় ২.২ বছর ধীর ছিল।
স্বাদ ও অভ্যাস গঠন
গবেষণার সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো, শৈশবের এই খাদ্য নিয়ন্ত্রণ ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত তাদের খাদ্যাভ্যাসকে প্রভাবিত করেছে। এই বয়সেও তারা কম চিনিযুক্ত খাবার পছন্দ করেন এবং সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্যকর ও বৈচিত্র্যময় খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখেন। গবেষকদের মতে, জীবনের শুরুর দিকের এই পুষ্টি ও চিনির পরিমাণ বিপাক প্রক্রিয়া এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গঠনে দীর্ঘস্থায়ী ভূমিকা রাখে। যদিও এটি ছোট শিশুদের চিনি থেকে পুরোপুরি বিরত রাখার পরামর্শ দেয় না, তবে জন্মের পরের ১০০০ দিন যে শিশুর দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যের ভিত্তি গড়ে দেয়, তা এই গবেষণায় স্পষ্ট হয়েছে।