বাংলাদেশের শেরপুরের নকলায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে একটি বাল্যবিয়ে বন্ধ করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে কায়দা গ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কনের বাবাকে সাত হাজার টাকা জরিমানা ও মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেবেন না মর্মে মুচলেকা নেওয়া হয়। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ঘটনার বিবরণ
নকলা উপজেলার জালালপুর মন্ডলপাড়া গ্রামের রেদোয়ান নামের এক যুবকের সঙ্গে কায়দা গ্রামের আলো আক্তার নামের এক কিশোরীর বিয়ের আয়োজন চলছিল। স্থানীয়রা খবরটি প্রশাসনকে জানালে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বিষয়টি আমলে নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
অভিযান ও ব্যবস্থা
জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আফরিন এ্যানির নেতৃত্বে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা কনের বাড়িতে অভিযান চালান। এসময় কনের বাড়িতে বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। অভিযানে বিয়ে বন্ধ করে ভ্রাম্যমাণ আদালত কনের বাবাকে সাত হাজার টাকা জরিমানা করেন। এছাড়া ভবিষ্যতে মেয়ের আইনসম্মত বয়স পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেবেন না মর্মে তার কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়।
আইনি সতর্কবার্তা
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আফরিন এ্যানি বলেন, বাল্যবিয়ে একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের ঘটনার তথ্য পাওয়া মাত্রই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সেই সঙ্গে তিনি সব অভিভাবকদের সন্তানদের আইনসম্মত বয়স হওয়ার আগে বিয়ে না দেওয়ার আহ্বান জানান। অভিযানে নকলা থানা পুলিশ, উপজেলা মহিলা বিষয়ক দপ্তরের প্রতিনিধি ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।