অস্ট্রেলিয়ার পার্থে অ্যাডিলেড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক জানিয়েছেন, তিনশ কোটি বছরেরও বেশি সময় আগে পৃথিবী তার অভ্যন্তরে পানি পুনর্ব্যবহার করে আগ্নেয়গিরির কার্যক্রমে সহায়তা করত। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-রসায়নবিদ ড. এরিক ভ্যানডেনবার্গের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক গবেষণা দলটি পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার পিলবারা ক্র্যাটন অঞ্চলের প্রাচীন শিলাখণ্ডগুলো বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পেয়েছেন। তাদের গবেষণাপত্রটি নেচার কমিউনিকেশনস সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষকদের মতে, আধুনিক টেকটোনিক প্লেট ব্যবস্থা গড়ে ওঠার অনেক আগেই পৃথিবী এই পানির পুনর্ব্যবহার প্রক্রিয়া চালু রেখেছিল। ড. এরিক ভ্যানডেনবার্গ জানান, তিনশ কোটি বছর আগের পৃথিবী আজকের মতো ছিল না। তৎকালীন উত্তপ্ত পৃথিবীতে আধুনিক প্লেট টেকটোনিক ব্যবস্থা না থাকলেও পানি ভূ-পৃষ্ঠ থেকে গভীরে পৌঁছানোর অন্য কোনো কৌশল কাজ করত।
ড্রিপডাকশন নামক বিশেষ প্রক্রিয়া
গবেষক দলটি এই পানির প্রবাহকে ড্রিডাকশন (Dripduction) নামে একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন। তাদের ধারণা, পৃথিবীর বাইরের দিকের শক্ত ও পানি-সমৃদ্ধ শিলাখণ্ডগুলো সময়ের সাথে সাথে ভূ-অভ্যন্তরের উত্তপ্ত ম্যান্টলের ভেতরে ধসে পড়ত। এর ফলে ভূ-পৃষ্ঠের পানি মাটির গভীরে চলে যেত এবং সেখানে ম্যাগমা তৈরিতে সহায়তা করত। সেই ম্যাগমা থেকেই তখন আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত ঘটত।
কেন এই গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ
বিজ্ঞানীদের মতে, ভূ-পৃষ্ঠ ও ভূ-অভ্যন্তরের মধ্যে পানির এই আদান-প্রদান আগ্নেয়গিরির গঠন, মহাদেশের বিকাশ এবং জীবনের প্রয়োজনীয় উপাদানের সঞ্চালনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পিলবারা অঞ্চল থেকে প্রাপ্ত এই প্রাচীন শিলাখণ্ডগুলো প্রমাণের ভিত্তিতে বিজ্ঞানীরা এখন বুঝতে পারছেন যে, পৃথিবী শুরুর দিক থেকেই অনেক বেশি গতিশীল ছিল এবং সেখানে পানির মতো প্রয়োজনীয় পদার্থের চক্র বজায় ছিল।